ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

রেন্দ্রে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট মোকাবিলায় এডিবির ‘বারিন্দ’ প্রকল্প নিয়ে অংশীজন কর্মশালা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০১:০০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০টি জেলা নিয়ে গঠিত খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে দ্রুত কমে আসছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘদিনের কম বৃষ্টিপাত এবং বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত সেচনির্ভর কৃষির কারণে এই সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে প্রস্তাবিত Barindra Area Resilient and Innovative Development (BARIND) প্রকল্প নিয়ে অংশীজন মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ: Barindra Area Resilient and Innovative Development (BARIND) প্রকল্প’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বারিন্দ বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানির অতিনির্ভরতা এই অর্জনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ অনুযায়ী বরেন্দ্র অঞ্চল জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি অঞ্চলের একটি। এ অঞ্চলের শক্ত এঁটেল মাটিতে ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ (Aquifer Recharge) সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর প্রতিবছর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু কৃষিতেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং পরিবেশের ওপরও পড়ছে।

বক্তারা জানান, প্রস্তাবিত BARIND প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এজন্য ডাবল-লিফটিং সেচ ব্যবস্থা, পানি-সাশ্রয়ী Alternate Wetting and Drying (AWD) প্রযুক্তি, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আলোচনায় আরও বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খরা মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, ধানক্ষেত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

কর্মশালায় তিনটি কারিগরি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান অবস্থা, বিকল্প পানির উৎসের ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং এডিবির প্রস্তাবিত BARIND প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিতে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব ড. রফিকুল-ই. মোহাম্মদ, এডিবির ড. তাকেশি উয়েদা, ড. শিংগো কিমুরা এবং বিএমডিএ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।