জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া সংশ্লিষ্টদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এমপিও বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি জারি করা এক আদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কলেজ) অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো, হেনস্তা ও বেতন-ভাতা বন্ধের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে পুনরায় চিঠি জারি করা হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জোরপূর্বক পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু করতে যারা নির্দেশনা মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৮(১)(খ) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের এমপিও আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার ১৮(১)(খ) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে হিসাব সংরক্ষণ, আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা ও অন্যান্য নির্দেশনা প্রতিপালন না করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জোরপূর্বক পদত্যাগের বিষয়গুলো নিষ্পত্তির পথে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন