জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রার্থিতা সংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে কয়েকটি সংসদীয় আসনে আগে ছাপানো ও পাঠানো শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া ভোট বাতিল করা হয়েছে।
এতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যার কারণে এসব আসনে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যশোর-৪, চট্টগ্রাম-২, রংপুর-১ ও রংপুর-৪ সংসদীয় আসনে আগে ছাপানো শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালট বাতিল করে নতুন করে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ব্যালট ছাপানো হচ্ছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর একাধিক প্রার্থীর পক্ষে ও বিপক্ষে আদালতে আপিল হওয়ায় প্রার্থিতার তালিকায় পরিবর্তন আসে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কার্যকর হওয়ায় আগে মুদ্রিত পোস্টাল ব্যালটগুলো আর ব্যবহারযোগ্য থাকেনি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-২ আসনের শিক্ষকদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে যশোর-৪, রংপুর-১ ও রংপুর-৪ আসনের ব্যালট ছাপানোর কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, যশোর-৪ আসনের শিক্ষকদের কাছে পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশনার পর সেগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি আসনে নতুন করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।
ইসি সূত্র জানায়, যশোর-৪ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ২৬৪ জন শিক্ষক ও ভোটার। একইভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনে ১ হাজার ৩৭৬ জন, রংপুর-১ আসনে ২ হাজার ৯৮৭ জন এবং রংপুর-৪ আসনে ৩ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষক ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছেন। আদালতের রায়ের আগে এসব ভোটারের জন্য ব্যালট ছাপানো হলেও পরবর্তী প্রার্থিতা পরিবর্তনের কারণে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে সম্ভাব্য আদালতের রায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু আসনে পোস্টাল ব্যালট ছাপাতে বিলম্ব করা হয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যালট ছাপানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আবার তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পোস্টাল ব্যালট অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২২৫ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বাক্সে জমা পড়েছে। একই সময় পর্যন্ত এক লাখ ৯৪ হাজার ৯১৪টি পোস্টাল ব্যালট নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ২২ হাজার ৩১৫ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে আইনি নির্দেশনা অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



