বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আর্থিক ব্যয়ে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’-এ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাসিক নগদ ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে শিক্ষার্থীসংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের স্তর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০০ পর্যন্ত, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০১ থেকে ১০০০ হলে এ সীমা হবে ১৫ হাজার টাকা এবং এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে।
বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় পর্যায়ে (প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত) এক হাজার শিক্ষার্থী পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য মাসিক ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০১ থেকে ২০০০ হলে ২০ হাজার টাকা এবং দুই হাজারের বেশি হলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় করা যাবে।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫০০ শিক্ষার্থী থাকলে মাসে ১৫ হাজার টাকা, ৫০১ থেকে ১০০০ শিক্ষার্থী হলে ২০ হাজার টাকা এবং এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা নগদে ব্যয় করা যাবে।
স্নাতক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান, যেখানে একাদশ থেকে স্নাতক পাশ ও স্নাতক সম্মান পর্যন্ত পাঠদান হয়, সেখানে এক হাজার শিক্ষার্থী পর্যন্ত হলে ১৫ হাজার টাকা, ১০০১ থেকে ২০০০ শিক্ষার্থী হলে ২০ হাজার টাকা এবং দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজারের মধ্যে হলে মাসে ২০ হাজার টাকা, ১০০১ থেকে ২০০০ শিক্ষার্থী থাকলে ২৫ হাজার টাকা এবং দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মাসে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা নগদে ব্যয় করতে পারবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হলে তা ক্রস চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। তবে নগদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে একক ভাউচারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না। দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতেই এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন