× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

রাবিতে নির্বাচনের আগে নিয়োগ স্থগিতের আবেদন : হুমকি ও জবাবদিহি

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরে নির্বাচন পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপিপন্থি পাঁচ কর্মচারী। এর পরের দিন বৃহস্পতিবার আবেদনে স্বাক্ষরিত কর্মচারীদের কর্মস্থলে দল বেঁধে উপস্থিত হয়ে হুমকি ও জবাবদিহির অভিযোগ এসেছে একদল কর্মচারী ও ‘স্থানীয় জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’ নামক একটি সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে। আবেদনকারী এক কর্মচারীর সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও গায়ে হাত তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের কর্মচারী গতকালের এক আবেদনকারীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

ওই কর্মচারী হলেন হলের নিম্নমান সহকারী ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান।

এদিকে, নিম্নমান সহকারী কর্মচারী স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গতকালের আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’ নামের সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার এখতিয়ার বহির্ভূত ও প্রমাণহীন অভিযোগ উল্লেখ করে উপাচার্য বরাবর পাল্টা অভিযোগ দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বরাবর আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ করেন এবং নির্বাচন পর্যন্ত নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানান। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন কর্মচারী মাসুদুর রহমান ও স্টুয়ার্ড শাখার আরেক কর্মচারী পিয়ারুল ইসলামসহ পাঁচ জন।

ওই আবেদনপত্রে তারা বলেন, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল কার্যক্রম ‘রুটিন ওয়ার্ক’ নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যান্য সবই ন্যস্ত হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ একটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। বর্তমানে সরকার এই কাজ থেকেও বিরত রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত এই আইন মেনে চলা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য।

তারা আরও বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মী বাহিনীকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে গণহারে দৈনিক মজুরি ও এ্যাড-হক ভিত্তিতে নিয়োগদানের জন্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ এবং বাইরের উক্ত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এটি সরকার ও দেশবিরোধী একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি। চাকরি প্রত্যাশীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিনিয়ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনে-দুপুরে মহড়া দিচ্ছে, ফলে ক্যাম্পাসে আতঙ্কজনক ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা ক্যাম্পাসে তাদের প্রবেশ সীমিত করতে এবং চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের অনুরোধ করছি।’

এদিকে, কর্মচারীদের এ অভিযোগের পরে দল বেঁধে শহীদ হবিবুর রহমান হলে মাসুদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে উপস্থিত হয় একদল কর্মচারী ও ওই সংগঠনের নেতারা। তারা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই আবেদনের বিষয়ে জবাবদিহি করেন। এ সময় তারা কর্মচারী মাসুদকে কার্যালয় থেকে তুলে আনার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ এসেছে।

এই বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহের হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্তত ৫০ জন অজ্ঞাতনামা বহিরাগত আকস্মিকভাবে হলে প্রবেশ করে মাসুদুর রহমানকে ঘিরে ধরে মারধর করার চেষ্টা চালায়। তারা সন্ত্রাসী আচরণ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হল থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা মাসুদকে হল গেট পর্যন্ত টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে চরম হৈচৈ সৃষ্টি হলে সাধারণ ছাত্র ও অন্যান্য স্টাফ এগিয়ে আসেন। পরে তারা কর্মচারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে হল ত্যাগ করে।

জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, হলে বর্তমানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হলের স্টাফ ও শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংঘটিত ঘটনাটি একটি সন্ত্রাসী ঘটনা এবং প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ বিষয়ে কর্মচারী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘একদল বহিরাগত আমাকে হুমকি দিয়েছে এবং টেনে হেঁচড়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে হামলা করার ঘটনায় জড়িত সকলের বিচার চাই আমি।’

পাল্টা অভিযোগে ‘জুলাই বাস্তবায়ন কমিটি’র কর্মচারী মাসুদুর রহমান স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গতকালের আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা আজ ঘটনার পরে উপাচার্য বরাবর আরেকটি আবেদন করেন।

ওই আবেদনে তারা বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু দিনমজুর ও একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে অসত্য, বানোয়াট ও প্রমাণহীন অভিযোগ সংযোজন করা হয়েছে। উপাচার্যের দায়িত্বকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী একটি স্মারক লিপিতে সম্মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছে। একই সঙ্গে তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের পরস্পর সহযোগী দুইটি বন্ধুপ্রতীম সংগঠনের মধ্যে সংঘাত উসকে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। এটি প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে গুরুতর আপত্তিকর। উক্ত কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি কর্মচারীর আচরণবিধি পরিপন্থি। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় কাটাখালির হরিয়ান এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম এবং নিয়োগ বন্ধ চাওয়া পাঁচ জনের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা এ ধরনের আবেদন করতে পারেন না। তারা কেন এই আবেদন করেছেন আমরা তাদের থেকে সেটি জানতে চেয়েছি। তাদের মধ্যে দুজন এ আবেদনে স্বাক্ষর দিতে না চাইলেও তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হবিবুর রহমান হলে ওই কর্মচারীর সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। তারা ওই কর্মচারীকে হুমকি দিয়েছেন এবং গায়েও হাত তুলেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। যে-কেউ যেকোনো বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করতে পারেন। তবে এর জন্য এমন হুমকির ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি।’

Link copied!