জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন। বাঁধন স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে এবং সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়াস খানকে সভাপতি এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব হিসেবে কমিটি ঘোষণা করে বাঁধনের কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভাপতি পিয়াস খান।
‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগানকে ধারণ করে ১৯৯৭ সালে গঠিত হয় বাঁধন। বাঁধনের মূলমন্ত্র হলো ‘স্বেচ্ছায় রক্তদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা’। সংগঠনটি যুবসমাজকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে, আহত ও মুমূর্ষু রোগীদের বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহ করে, বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান করে।
বাঁধনের আর্থিক যোগান আসে সদস্যদের চাঁদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপদেষ্টা পরিষদের আর্থিক সহায়তা থেকে।
বাঁধন বর্তমানে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৬টি জোন, ১৪৮টি ইউনিট এবং ১৪টি পরিবারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাঁধন ১১.৩৫ লক্ষের বেশি ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে এবং ২৪.৬৩ লক্ষ মানুষের বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করেছে।
বাঁধনের জাককানইবি পরিবারের সভাপতি পিয়াস খান বলেন, ‘৯৪তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাঁধন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে, বিভাগীয় জোন-১-এর যাত্রা শুরু করল। আমি দীর্ঘ সময় ধরে রক্তদান সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ক্যাম্পাসে আসার পর দেখলাম এখানে তেমন কোনো কার্যকর রক্তদান সংগঠন নেই। তখন মাথায় আসে, বাঁধনের কার্যক্রম শুরু করা যায় কিনা। কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে কাজ শুরু করি এবং ধীরে ধীরে আরও অনেকেই যুক্ত হয়। প্রায় ১.৫ বছর প্রচেষ্টা করার পর অবশেষে আমরা বাঁধন কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি, এতে আমরা সকলেই আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো সবার কাছে বাঁধনকে পরিচিত করা। এরপর ধীরে ধীরে যেসব কর্মী আমাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী তাদের সংযুক্ত করব। ক্লাস ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে রক্তের গ্রুপ সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন করবো। সম্প্রতি আমরা একটি ব্লাড ক্যাম্প আয়োজন করি, যেখানে প্রায় ২০০ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়েছে।’
পিয়াস খান জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর রক্তের একটি ডাটাবেস তৈরি করতে চায়, যাতে যেকোনো মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন হলে সাহায্য করা যায়।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন