আরবি প্রভাষক নিয়োগে বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় দাবি পূরণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে মানববন্ধনের আয়োজন করে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, খেলাফত ছাত্র মজলিশ, জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়াসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায়— ‘আবু সাঈদের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই’, ‘অনার্সে যোগ্যতা, তবু কেন বঞ্চনা’, ‘শিক্ষা সবার অধিকার, বৈষম্য কেন বারবার’, ‘একই পদ, একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ’, ‘অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়’, ‘বৈষম্য বাতিল কর, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত কর’—স্লোগান সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, অন্যান্য বিষয়ে অনার্স শেষ করেই যেখানে প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়, সেখানে ইসলামী ও আরবি বিষয় থেকে কেন মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটি আমাদের সঙ্গে চরম বৈষম্য। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই বৈষম্য দূর করে আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় ২৪ ঘণ্টা পর আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
তালাবায়ে আরাবিয়ার সাবেক সেক্রেটারি সাজাতুল্লাহ শেখ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সরকার বিভিন্নভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে। বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের আন্দোলনে হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রক্ত ঝরিয়েছে। কিন্তু আজও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য নিরসন হয়নি। ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে আরবি প্রভাষক পদের জন্য অনার্স ও মাস্টার্স—উভয় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ অন্যান্য প্রভাষক পদে শুধু অনার্স করেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। একই শর্ত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনেও রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বৈষম্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এনটিআরসির পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা হয়তো মাদ্রাসার ফাজিল শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না। আপনারা যে কানে তুলো দিয়েছেন, চোখে কাঠের চশমা পরেছেন—সেই চশমা খুলে ফেলুন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বারবার বৈষম্যের মুখে ফেললে আপনারা গদিতে বসে থাকতে পারবেন না। আমাদের দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে কুষ্টিয়া–খুলনা মহাসড়ক অচল করে দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের সব শিক্ষার্থীকে বাসযোগে এনে এনটিআরসি ভবন ঘেরাও করা হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শুধু জুলাই আন্দোলনেই ভূমিকা রাখেনি; ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের আজাদী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—সব আন্দোলনেই তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ দেখা যাচ্ছে, তারা শুধু রক্ত দিচ্ছে আর বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এখন আর একটি প্রাণও যেন না যায়—এই লক্ষ্যে সকল জুলাই যোদ্ধাকে একত্রিত করে এই বৈষম্য দূর করা হবে। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখা সবসময় পাশে থাকবে।’
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ভেবেছিলাম বৈষম্য দূর হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বৈষম্যকারীরা এখনো স্তরে স্তরে বসে আছে। তারা ইসলামী শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অন্যান্য বিষয়ে অনার্স শেষ করলেই সম্মানের সঙ্গে প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। অথচ আমাদের ক্ষেত্রে মাস্টার্সের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা চরম বৈষম্য। যারা এই বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন, অনতিবিলম্বে এই শর্ত প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন