× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

জবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর রাতে শিক্ষার্থীরাই ‘উদ্বোধন’ করল কেন্দ্রীয় মন্দির

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির ‘উদ্বোধন’ করল শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির ‘উদ্বোধন’ করল শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং দ্রুত মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রাতে নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির ‘উদ্বোধন’ করেন তারা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচি রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে দেবদেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে মন্দির উদ্বোধনের ঘোষণা দেন এবং সেখানে রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রশাসন বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, দিনভর প্রতিবাদ করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ স্থাপন করেছেন তারা এবং সারারাত সেখানে অবস্থান করবেন।

দিনভর অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘এক, দুই, তিন, চার—মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’ এবং ‘মন্দির আমার অধিকার—রুখে দেবে সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও এখনো কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। এ দাবিতে বারবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্য জায়গার সংকটের কথা বলার পর শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গা প্রস্তাব করলে সেখানে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক।

ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, প্রশাসনকে অবহিত না করেই প্রস্তাবিত জায়গায় টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এ কারণেই তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

জবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস বলেন, প্রশাসন যদি মন্দির নির্মাণের অনুমতি না দেয়, তাহলে ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে মন্দির স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হবে—এমন সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ছাত্রদল–ছাত্র অধিকার প্যানেলের নির্বাচিত দুই সম্পাদক ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, সনাতন শিক্ষার্থীদের মন্দিরের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি তাদের ধর্মীয় অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্ন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত অসংবেদনশীল এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের অনুভূতির প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের পরও প্রশাসন জায়গা ও অর্থের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দিয়েছে। অথচ প্রস্তাবিত মন্দিরের স্থানে শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক আচরণ।

এদিকে সারাদিনেও জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

অবন্তী রায় নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিকাংশই তাদের কর্মসূচিতে উপস্থিত হননি, যা সনাতনী শিক্ষার্থীদের প্রতি উপেক্ষার ইঙ্গিত দেয়।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ও অভিযোগ জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!