ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জবিতে বর্ষবরণ উৎসব সফল করায় সংশ্লিষ্টদের সম্মানে চা-চক্র অনুষ্ঠিত

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা চারুকলা অনুষদ, সংগীত বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মানে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এ আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, চারুকলা অনুষদের ডিন ও প্রিন্টমেকিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আলপ্তগীন, ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায় এবং নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বর্ষবরণ আয়োজন সফল করতে প্রান্তিক পর্যায়ে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছে, বিশেষ করে চারুকলা অনুষদ, সংগীত বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা—তাদের উৎসাহিত করা এবং কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা এই আয়োজন বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছে, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করা সময়ের দাবি এবং কোনো অপচেষ্টা দ্বারা এ সংস্কৃতি বিনষ্ট করা সম্ভব নয়। চারুকলা অনুষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক যারা ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও সক্রিয় হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দেশ-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি তুলে ধরছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে এসব বিভাগের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও বহুসাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন বৈশাখী আয়োজনে যুক্ত থাকলেও এ ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি। তার মতে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দও নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রদর্শিত আন্তরিকতা ভবিষ্যতে তাদের আরও উৎসাহিত করবে বলে মত দেন।

শিক্ষার্থীরাও তাদের অভিব্যক্তিতে জানান, এ ধরনের স্বীকৃতি ও ভালোবাসা তাদের আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে। তারা সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।