জাতীয় পতাকা ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাবের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ইবি ইউট্যাবের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন: জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ড. আলীনূর রহমান, ড. নজিবুল হক, ড. মিজানুর রহমান, ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ড. রশিদুজ্জামান, টিএসসিসি পরিচালক ড. জাকির হোসেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মঈদ বাবুল, সম্পাদক তোজাম হক, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা সুকৌশলে এই কাজটি করেছে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এর মাধ্যমে শুধু একটি সংগঠনকে নয়, রাষ্ট্রকে অবমাননা করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন না; তিনি সকল দলের, মতের এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী ছিলেন। একটি মহল সুকৌশলে নবনির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তাদের এই উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না।
ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবমাননার নজির দেশে রয়েছে। এটি অতীতেও ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও একটি চক্র এ ধরনের কাজ করতে পারে। কিছুদিন আগে আমাদের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, যা প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। প্রশাসনের নীরবতা, নির্লিপ্ততা এবং কচ্ছপগতির অগ্রগতিকে আমি ব্যর্থতা হিসেবে দেখি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত দুটি হত্যাকাণ্ড এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, যে নেত্রী সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন এবং এর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই নেত্রীর ছবি অবমাননা করা হয়েছে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারই স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসন নিজ উদ্যোগে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু তারা তা করেনি। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। পাশাপাশি অনতিবিলম্বে আমাদের সহকর্মী আসমা সাদিয়া রুনা এবং শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার চাই। সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, গত ১৫ তারিখ প্রশাসনের নাকের ডগায় যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমি ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান প্রশাসন যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছে, তার প্রেক্ষাপটেই দুষ্কৃতিকারীরা এমন দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। আমি আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বর্তমান প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধরতে গেলে গেটের সামনে ঝুলানো বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ছবি পদদলনের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পূর্বেই বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানায় জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাব।



