× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

কমপ্লিট শাটডাউনে অচল ববি, দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

শিক্ষকদের আহূত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিসহ শিক্ষকসংকট নিরসনের দাবিতে দুইদিন পূর্বে অর্থাৎ সোমবার এই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষকেরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় পূর্ব ঘোষণার আলোকে বুধবার সকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউন শুরু করা হয়। এতে ক্লাস বন্ধসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়লে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে যায় গোটা ক্যাম্পাস। শিক্ষকদের এই কঠোর কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি হলে সেশন জট তৈরির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা চিন্তিত বলে জানা গেছে।  

আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বলছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদোন্নতি পাচ্ছেন, নতুন নিয়োগ হচ্ছে, কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ২১০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগ ২-১জনকে দিয়ে চালানো হচ্ছে, ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একজন শিক্ষক ১৫-১৬টি কোর্সে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, উল্লিখিত এই দুটি দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এক কাতারে এসেছেন। তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই বুধবার কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন  হয়। এর আগে গত রোববার দুটি দাবির বাস্তবায়ন চেয়ে ক্যাম্পাসে আমরণ অনশনে বসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। অনশনের একদিনের মাথায় সোমবার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দাবিতে মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা, সেখান থেকে কঠোর শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়াসহ শিক্ষক সংকট নিরসন চাইছেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। কিন্তু সরকার ২০২১ সালে পদোন্নতির ন্যূনতম যোগ্যতার নীতিমালা প্রকাশ করে। এই নীতিমালার নির্দেশিকার আলোকে নীতিমালা বা সংবিধি প্রণয়ন করতে হবে চাইছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), যা শিক্ষকেরা মানতে নারাজ। 

আন্দোলনরত শিক্ষক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পদোন্নতি ও নিয়োগ হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ শতাধিক শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ২১০ জন। এতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে এবং জাতি গড়ার কারিগরদের সার্বক্ষণিক টেনশনে ভুগতে হয়। 

শিক্ষকদ্বয় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই যৌক্তিক দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রাখা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সরকার ২০২১ সালে পদোন্নতির ন্যূনতম যোগ্যতার নীতিমালা প্রকাশ করে। কিন্তু শিক্ষকদের তরফ থেকে ২০১৫ সালের নীতিমালা অনুসরণ করতে সুপারিশ রাখা হয়। 

সেই দাবিতে বুধবার সকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউন পালিত হচ্ছে। এমন কঠোর কর্মসূচিতে সেশন জট তৈরি হওয়াসহ শিক্ষার্থীরা আরও বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের এই শঙ্কার বিষয়টি আন্দোলনরত শিক্ষকেরাও স্বীকার করেন। কিন্তু তাদের দাবি, শাটডাউন কর্মসূচিতে যাওয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। এবং দুটি যৌক্তিক দাবি অতি শিগগিরই মেনে না নিলে এই কর্মসূচি চলমান রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

শিক্ষককেরা একত্রিত হয়ে এমন কর্মসূচি পালন করায় বেকায়দায় পড়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি বুধবার বিকেলে রূপালী বাংলাদেশকে জানান, শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলের ক্ষতি হবে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলনরতদের সাথে সংলাপ চলছে, আশা করা যায়, শিক্ষকেরা ক্লাসে ফিরবেন।

তবে উপাচার্য এটাও বলছেন, যে  ২০২১ সালে পদোন্নতির ন্যূনতম যোগ্যতার নীতিমালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা কাটা নিয়ে বেশ সন্দেহ এবং ধোয়াশা রয়েছে।

Link copied!