ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আবদুল্লাহসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে আহত শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমানের চাচা মীর মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুটি মামলা দায়ের হলো। এর আগে ১৮ এপ্রিল আমানুল্লাহ মুয়াজের বড় ভাই আহমদ শফি ১২ জনের নাম উল্লেখ করে প্রথম মামলা করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল রাতে এমবিবিএস ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমান ও মো. আমানুল্লাহ মুয়াজের মধ্যে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, আমানুল্লাহ মুয়াজ হামিদুর রহমানের মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করেন।
পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুয়াজকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নাফিউল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী হাতুড়ি দিয়ে মুয়াজের মাথায় আঘাত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাফিউলকেও আটক করে।
আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুয়াজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নতুন মামলায় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আসামি করায় ক্যাম্পাসে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, নতুন মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

