ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হেলমেট পরে কেন পরীক্ষায় বসলেন শিক্ষার্থীরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
পরীক্ষার হলে হেলমেট পড়ে শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী হেলমেট পরে অংশ নেন।

এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ঘটনা ঘটে।

আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

নিরাপত্তার শঙ্কায় গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেছেন। গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কালকে আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে অথচ প্রশাসন এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের ক্লাস পরীক্ষাও চলমান রেখেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে বসে ক্লাস পরীক্ষা দিতে শঙ্কাবোধ করায় হেলমেট পড়ে এক্সাম দিতে এসেছি।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ও মানসম্পন্ন সংস্কারকাজ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, অনেক শ্রেণিকক্ষই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তারা কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াও চলছে।