ঈদুল আজহার আগেই বেতন ও উৎসব ভাতা হাতে পাচ্ছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এমন খবরে স্বস্তি ফিরেছে দেশের প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মাঝে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, মে মাসের বেতন এবং ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার বিল দ্রুত দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বা শেষ সপ্তাহে একসঙ্গে বেতন-বোনাস পেতে পারেন শিক্ষকরা।
সোমবার (১১ মে) মাউশির ইএমআইএস সেল থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ১৩ মে’র মধ্যে ইএমআইএস সিস্টেমের ‘MPO-EFT’ মডিউলে লগইন করে মে মাসের বেতন ও উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটির (EFT) মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য অর্থ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করে পৃথকভাবে বিল দাখিল করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষক-কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা পদত্যাগ করলে বিধি অনুযায়ী তার প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করে বিল জমা দিতে হবে। সাময়িক বরখাস্ত, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে বেতন কর্তন বা বন্ধের প্রয়োজন হলে তা বিল সাবমিট অপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা রয়েছে কিন্তু চলতি মাসে নিয়মিত বেতন প্রাপ্য নন, তাদের ক্ষেত্রে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।
এদিকে মাউশির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি, তবে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। অনুমোদনের পর জিও জারি করে তা আইবাস সিস্টেমে পাঠানো হবে।
মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘ঈদ বোনাসের জিও এখনো জারি হয়নি। তবে ঈদের আগেই শিক্ষক-কর্মচারীরা উৎসব ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে মে মাসের বেতনও পরিশোধ করা হতে পারে।’
মাউশি আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইএফটির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে। ফলে তথ্যের নির্ভুলতার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।
ভুল তথ্যের কারণে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করলে তা নির্ধারিত কোডে (১০৯০১০১১০১৪৩৫-১৪৪১২০২) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানের মূল কপি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে শুধু আইবাস সিস্টেমে যাচাইকৃত বা ভ্যালিড জনবলের তথ্যই বিল সাবমিট অপশনে দৃশ্যমান হচ্ছে। যাদের তথ্যে এখনো ভুল রয়েছে, তা সংশোধনের পর পরবর্তীতে বিল সাবমিটের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল প্রস্তাব আকারে জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সেই অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
উল্লেখ্য, বেতন-ভাতা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিয়মিত ও গতিশীল করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং দীর্ঘদিনের জটিলতাও অনেকাংশে কমেছে।

