ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বন্ধের ঢেউয়ের মাঝে উল্টো স্রোতে স্টার সিনেপ্লেক্স

জিএম মিজান
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশে গত এক দশকে প্রেক্ষাগৃহের যে দৃশ্যপট বদলে গেছে তা চোখে পড়ার মতো। একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে পুরনো সিনেমা হল। ঢাকার বাইরে বেশিরভাগ জেলা শহরে পাকা পোস্টার দেয়ালে জায়গা নিয়েছে পরিত্যক্ততা, ধুলো আর নীরবতা।

কিন্তু এ চিত্রের বিপরীতে এক অদ্ভুত উল্টো স্রোত সৃষ্টি করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স। রাজধানী থেকে শুরু করে এখন প্রেক্ষাগৃহের বিস্তার ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে জেলা শহরে, যা সম্প্রতি বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কৌতূহল ও অর্থনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিন জেলা, তিন মাল্টিপ্রেক্স, তিন ধরনের প্রত্যাশা

চলতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও বগুড়ায় নতুন তিনটি মাল্টিপ্লেক্স’র উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ার মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করছে স্টার সিনেপ্লেক্স আর শরীয়তপুরে তৈরি হচ্ছে বেসরকারি উদ্যোগে পদ্মা সিনেপ্লেক্স। নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ির সীমান্ত টাওয়ারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখায় থাকছে তিনটি হল, যা ঈদুল ফিতরে উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে। বগুড়ার পুলিশ প্লাজায় নির্মাণাধীন আরেকটি শাখায় থাকবে দুটি হল, যা চলতি বছরেই চালুর পরিকল্পনা আছে।

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, শাখা দুটির কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। শুরুতে ঢাকা কেন্দ্রিক ছিলাম, কিন্তু এখন জেলা শহরেই নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০০টি পর্দা চালুর ঘোষণা আগেই দিয়েছিল—যার একটি অংশ এখন জেলার দিকে ঝুঁকছে।

সেতুর সঙ্গে হলের সংযোগ

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পাশে শরীয়তপুরের জাজিরায় নির্মাণাধীন পদ্মা সিনেপ্লেক্স অঞ্চল ভিত্তিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক নতুন সাংস্কৃতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত। মাল্টিপ্লেক্সটির মালিক চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল জানালেন, ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। ঈদুল আজহায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিনেপ্লেক্সটি শুধু বিনোদনের কেন্দ্র নয়—পদ্মা সেতুকে ঘিরে যে ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট, পর্যটন ও নতুন যোগাযোগ অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, সেটির সাথেও জড়িত।

ভিন্ন সুযোগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের সিনেমা নতুন দর্শক পেয়েছে। ‘হাওয়া’, ‘পরান’, ‘প্রেমিক’, ‘অটিস্টিক’, ‘মাস্টারডা’—সবই দেখিয়েছে জেলার দর্শকের রেসপন্স গুরুত্ববহ।
প্রেক্ষাগৃহ সংকট নাকি রূপান্তর?

বলা যায়—বাংলাদেশ প্রেক্ষাগৃহ শিল্প ধ্বংস হয়নি, বরং একটি যুগান্তকারী রূপান্তর পার করছে। পুরনো সিঙ্গেল-স্ক্রিন কমছে, নতুন মাল্টিপ্লেক্স বাড়ছে। এ পরিবর্তন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে ঢাকা কেন্দ্রিকতা থেকে বের করে মেট্রো, জেলা ও পেরিফেরাল জোনে নিয়ে যাচ্ছে।

ভবিষ্যত প্রশ্ন

বাজার গবেষকদের মতে, আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের সিনেমাভোগী দর্শকের বড় অংশই জেলা শহরে তৈরি হবে। প্রশ্ন রয়ে যায়, সিনেপ্লেক্সগুলো কি একদিন উপজেলা পর্যায়েও যাবে? স্টার সিনেপ্লেক্স বলছে, হয়তো হ্যাঁ। যেখানে সিনেমা হল বন্ধ হওয়াকে কেউ কেউ সিনেমার মৃত্যু ভেবেছেন, সেখানে এসব নতুন মাল্টিপ্লেক্স বলছে মৃত্যু নয়, এটা একটা বিনোদন-সংস্কৃতি ট্রানজিশন। বাঙালি দর্শক সিনেমা ছাড়েনি স্রেফ তারা নতুন অভিজ্ঞতা খুঁজছে।