একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা এবং প্রসিদ্ধ লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল সংবাদমাধ্যমকে মলয় কুমার গাঙ্গুলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা তিমির নন্দী শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা দিনে দিনে খুব একা হয়ে যাচ্ছি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যেখানে আছেন, ভালো থাকুন, মলয়দা। দেশের জন্য আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর মরদেহ গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় আজ রাতে মেয়ে দেশে ফেরার পর শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জন্ম ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। সেখানে বসে নিয়মিত গান লিখেছেন, সুরারোপ করেছেন এবং কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন।
শিল্পী হিসেবে মলয় কুমার গাঙ্গুলী চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি গেয়েছেন ‘গুরু উপায় বলো না’ সিনেমায়, যেখানে প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্রের সঙ্গে তার ঠোঁট মিলিয়ে গানটি শ্রোতামহলে সাড়া ফেলে। এছাড়া ‘আমার মনতো বসে না’সহ আরও কয়েকটি সিনেমার গানে তাঁর কণ্ঠ পাওয়া যায়। সবচেয়ে আলোচিত গানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’, যা তিনি সুরারোপ ও গেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এই গানটি জনপ্রিয় গায়িকা সাবিনা ইয়াসমীনও গেয়েছেন।
মলয় কুমার গাঙ্গুলী শুধুমাত্র একজন গায়ক ছিলেন না; তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর গান ও সুর বাঙালি জাতীয়তাবোধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন