টালিউড অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমায় ‘জিল্লু’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা খেতাব পেয়েছেন তিনি। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন শ্যাম। এবারের ঈদে একই নির্মাতার ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। এবার সহশিল্পী শাকিব খান নয়, সিয়াম আহমেদ।
সিনেমা ও সমসাময়িক প্রসঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিনহাজুর রহমান নয়ন।
বরবাদ-এর দর্শকপ্রিয়তা রাক্ষস-এর জিল্লু ছাপিয়ে যেতে পারবে?
আমি আশাবাদী। সেই বিশ্বাস নিয়েই কাজটি করেছি। তবে চেষ্টার কমতি ছিল না। আগের থেকে ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। নিজেকে ইম্প্রুভ করছি। পরিচালক হৃদয় ভাই চেষ্টা করেছে বরবাদের থেকে ভালো একটা সিনেমা উপহার দেওয়ার। বরবাদে যেমন দর্শক ভালোবাসা দিয়েছেন এবার যেন তার চেয়ে বেশি কিছু পাওয়া যায় পুরো টিমের সেই চেষ্টা ছিল। আমরা চেষ্টা করে গেছি। বাকিটা দর্শক বলতে পারবেন আমরা কতটা পেরেছি।
আপনার অভিনয়ে শুরু কীভাবে?
আমার দাদা অভিনেতা জন ভট্টাচার্য। আমার মা পরিচালনা করেছেন। বাবাও অভিনয় করেছেন। বলা যায়, পুরো পরিবার সংস্কৃতি অঙ্গনের। সেই জায়গা থেকে অভিনয়ের প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দাদাকে দেখে শিখেছি। আমার দাদা যদি অভিনয়ে না আসত তাহলে হয়তো আমিও আসতাম না। দাদা আমাকে এই পথ দেখিয়েছেন। অভিনয়কে যে পেশা হিসেবে নেব সেটা কখনো ভাবিনি। দাদা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। মাঝে বেশকিছু দিন চাকরি করেছি। পরে বাবার ব্যবসা দেখভাল করি। তবে অভিনয়ের প্রতি টান বাড়তে থাকে। এরপর শুরু।
বরবাদ আপনার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট মনে করেন?
অবশ্যই। এই সিনেমা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সকল শিল্পীর স্বপ্ন থাকে মেগা প্রজেক্টে কাজের। আমারও ছিল। সেটি বরবাদে পেয়েছি। তাও আবার শাকিব খানের মতো তারকার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ। সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। সিনেমাটি আমাকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছে। এত বড় একটা কাজে যুক্ত হতে পারা আমার জীবনে বড় একটা পাওয়া।
বাংলাদেশের হলে বসে বরবাদ না দেখতে পারার আক্ষেপ করেছিলেন। এবার সেই আক্ষেপ মিটবে?
সে সময় খুবই আক্ষেপ করেছিলাম, আমি প্রচণ্ডভাবে ডিস অ্যাপয়েন্টেড ছিলাম যে দর্শকের সঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখতে পারিনি। তবে দর্শক রিভিউ সারাক্ষণ দেখতাম। সেই মুহূর্ত খুব মিস করেছি। একটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আশা করি, গতবারের সেই আক্ষেপ এবার মিটবে।
বরবাদ সিনেমা করার পর কাজ বেড়েছে?
বরবাদ করার পর কাজ বেড়েছে কি না জানি না, তবে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তো সেটা ডেফিনেটলি একটা মেজর পয়েন্ট।
শাকিব খান ও সিয়ামের মধ্যে কী পার্থক্য পেলেন কাজ করে?
এটা তো কোটি টাকার প্রশ্ন। তাই না? পার্থক্য অনেক আছে, অনেক আছে আবার নেইও। তো মেইনলি যেটা আমি পেলাম শাকিব স্যার একজন দারুণ অভিনেতা। বাংলাদেশের সেরা নায়ক। একটি কাজ করে যতটা জানার সুযোগ হয়েছে ততটুকুই জেনেছি। বেশ সহযোগিতা করেছেন। আর সিয়াম ভাই বিউটিফুল পারসন, আমি অনেকটা কাছ থেকে জানতে পেরেছি তাকে। সেও ভালো অভিনেতা। দুজনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।
কলকাতার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। ‘ধুল গায়ে’ শিরোনামের অরিজিৎ সিং-এর গানে কাজ করেছি। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘আবার প্রলয় টু’ ওয়েব সিরিজের কাজ শেষ করেছি। বেশ কয়েকটি নতুন ধারাবাহিকের কাজ শুরু করব। নতুন সিনেমা নিয়েও কথা চলছে। ফটোশুটের ব্যস্ততাও আছে।
কলকাতার ইন্ডাস্ট্রির হালচাল নিয়ে বলুন।
কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি ভালো নেই। সব ইন্ড্রাস্ট্রি আপস অ্যান্ড ডাউন থাকে। এখানেও তেমনি চলছে। ওপরওয়ালার ওপর বিশ্বাস যে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরব। আবার নতুন করে বড় বাজেটের সিনেমা হবে। দুই বাংলা একসঙ্গে কাজ করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন