× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন মুক্তি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

রুমানা ইসলাম মুক্তি। ছবি : সংগৃহীত

রুমানা ইসলাম মুক্তি। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হবেন বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ‘চাঁদের আলো’খ্যাত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী মা আনোয়ারা বেগমের চাওয়াতে এবং শিল্পীদের আগ্রহে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

কেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে আগ্রহী হলেন জানতে চাইলে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার এই নায়িকা বলেন, বিগত সময় আম্মা শিল্পী সমিতির কমিটিতে ছিলেন। মায়ের স্বপ্ন বেঁচে থাকতে তিনি আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখে যেতে চান। ওনার চাওয়া শিল্পীদের জন্য আমি যেন ভালো কিছু করি। তাই মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং শিল্পীদের কল্যাণের কথা ভেবে সাধারণ সম্পাদক পদে এবার নির্বাচন করব। সমিতি বিমুখ সদস্যদের পুনরায় সমিতি মুখী করতে চাই।

মুক্তি আরও বলেন, আমি যুক্ত হওয়ার পর বর্তমান কমিটির সহযোগিতায় গত দেড় বছরে সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দুই ঈদে উপহার দেওয়াসহ আরও অনেক কিছুই সদস্যদের জন্য আমরা করেছি। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে যে, এই কমিটির উদ্যোগে শিল্পী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে সকল শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মরণে প্রথমবারের মতো আমরা বড় পরিসরে ‘স্মৃতির আয়নায় কিংবদন্তির দৃশ্য’ শীর্ষক ব্যানারে প্রয়াত সব শিল্পীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মরণসভা করেছি।

আমার এক ফোনে এই আয়োজনে অংশ নিতে আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ মামা। এ ছাড়াও কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা মামা থেকে শুরু করে প্রয়াতদের পরিবার এবং অনেক নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিলেন। এখন থেকে প্রতি বছর এই স্মরণসভা হবে। এ ছাড়া আরও ভালো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে আমরা সফল হয়েছি। নির্বাহী সদস্য পদে থাকলেও এরই মধ্যে সদস্যদের জন্য বড় কিছু দায়িত্ব পালন করেছি। আরও ভালো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা সময় মতো জানাব। আশা রাখছি, শিল্পী সমিতির সম্মানিত সদস্যরা আমার পাশে থাকবেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন ২০২৪–২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৪ এপ্রিল। 

সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ (চ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিন অর্থাৎ ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার নিয়ম। সেই রীতি অনুযায়ী আগামী জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকে নতুন মেয়াদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মুক্তির প্যানেল ছাড়াও এবার আরও একটি প্যানেল হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই শিল্পীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। সুযোগ পেলেই এফডিসিতে সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো হয়। এ ছাড়া শিল্পী সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বরাবরের মতো শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সেই জায়গা থেকে নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা খুব করে চাচ্ছেন আমি যেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করি। চিত্রকর্মীদের আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আশা রাখছি, অভিজ্ঞদের নিয়ে সুন্দর একটি প্যানেল শিল্পীদের উপহার দিতে পারব। আমার কমিটিতে দক্ষ মানুষগুলো রয়েছেন। সেই সঙ্গে বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

উল্লেখ্য, খ্যাতিমান অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তি। অভিনয়ে তার সাবলীলতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও অনাবিল হাসি সহজেই দর্শকের মন জয় করেছে। মুক্তির অভিনয় শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে। পরিবারের উৎসাহই তাকে পথ দেখায় পর্দার জগতে। তার অভিনীত চরিত্রে কখনো দেখা যায় প্রাণবন্ত তরুণী, কখনো আবার আবেগঘন পারিবারিক গল্পের শান্ত মেয়ের ভূমিকায়। চরিত্রকে বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তোলাই তার শক্তি— সংলাপে অনুভূতি আর চোখের ভাষায় দৃশ্যের মর্ম ফুটে ওঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ দিয়ে পর্দায় যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। এরপর চিত্রনায়ক ওমর সানীর সঙ্গে ‘চাঁদের আলো’ তাকে এনে দেয় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। ‘তুমি আমার চাঁদ, আমি চাঁদেরই আলো’-গানটি আজও এই তারকার পরিচয়ের অংশ।

‘লড়াই’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’, ‘তুমি আমার স্বামী’সহ নানা সিনেমাতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান এই অভিনেত্রী। সাহসী নারী থেকে প্রেমে ভরা চরিত্র, বিভিন্ন ভূমিকায় তিনি দেখিয়েছেন পরিপক্বতা, যা নির্মাতাদের আস্থা আর দর্শকের ভালোবাসা বাড়িয়েছে। সময় বদলেও ইউটিউবে তার কাজ নতুন প্রজন্মের সঙ্গেও সেতুবন্ধন তৈরি করছে।

সিনেমা ছাড়াও অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন মুক্তি। বেশকিছু নাটক প্রযোজনাও করেছেন। কাজহীন শিল্পীদের জন্য নতুন করে প্রযোজনা নিয়েও ভাবছেন। মুক্তি শুধু একজন শিল্পীই নন দেশের নামকরা বেশকিছু সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। মোট কথা সংগঠন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সমাজ সেবায়ও এই নায়িকার সুনাম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংকটকালে মানবিক কাজেও তাকে দেখা যায়। পর্দার বাইরে মুক্তি শান্ত, পরিবারপ্রেমী ও নিভৃত স্বভাবের মানুষ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!