ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সবচেয়ে গভীর পানিতে বাস করে যে মাছ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
‘স্নেইলফিশ’ বৈজ্ঞানিক নাম সিউডোলিপারিস। সংগৃহীত

সমুদ্রের গভীরতা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল জাপানের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ইজু–ওগাসাওয়ারা ট্রেঞ্চে পানির পৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৩৩৬ মিটার গভীরে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর পানির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এই মাছটি স্নেইলফিশ পরিবারের একটি প্রজাতি, বৈজ্ঞানিক নাম সিউডোলিপারিস। গবেষকদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত ক্যামেরায় ধারণ করা সবচেয়ে গভীরে বসবাসকারী মেরুদণ্ডী প্রাণী।

এর আগে ২০১৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের বিখ্যাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চে ৮ হাজার ১৭৮ মিটার গভীরে স্নেইলফিশ দেখা গিয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে গভীরতম মাছের রেকর্ড ধরে রেখেছিল। তবে নতুন এই আবিষ্কার সেই রেকর্ড ভেঙে দিল।

গবেষণা অভিযানের নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার মিন্ডেরু–ইউডব্লিউএ ডিপ সি রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক অ্যালান জেমিসন। তিনি বলেন, ‘এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, গভীর সমুদ্র সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না- এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর হলেও জৈবিক দিক থেকে ইজু-ওগাসাওয়ারা ট্রেঞ্চ আরও সমৃদ্ধ। এর প্রধান কারণ হলো তাপমাত্রা ও খাদ্যপ্রবাহ।

ইজু-ওগাসাওয়ারা ট্রেঞ্চ তুলনামূলকভাবে উষ্ণ এবং জাপানের চারপাশের সাগরে পানির উৎপাদনশীলতা বেশি। ফলে উপরের স্তর থেকে বেশি জৈব পদার্থ নিচে নেমে আসে, যা গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের খাদ্য জোগায়।

অধ্যাপক জেমিসনের ভাষায়, ‘গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, তবে তাপমাত্রা ও খাদ্যের প্রাপ্যতাও জীবনধারণে বড় ভূমিকা রাখে।’

এই গভীরতায় পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় ৮০০ গুণ বেশি। এমন চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সাধারণ মাছের নেই। তবে স্নেইলফিশের শরীরে পটকা (সুইম ব্লাডার) নেই। ফলে প্রচণ্ড চাপেও তাদের দেহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

মাত্র ২০–২৫ সেন্টিমিটার লম্বা এই মাছগুলো ছোট ক্রাস্টেসিয়ান খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব ক্রাস্টেসিয়ান আবার উপরের স্তর থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ও জৈব পদার্থের ওপর নির্ভরশীল।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মাছের পক্ষে এর চেয়ে খুব বেশি গভীরে টিকে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ একই গভীরতায় এর চেয়ে উষ্ণ কোনো পরিখা পৃথিবীতে নেই।

অধ্যাপক জেমিসন বলেন, ‘যদি ভবিষ্যতে আরও গভীরে কোনো মাছ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি খুব বেশি গভীর হবে না।’

এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন রেকর্ড নয়, বরং গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত সীমা বোঝার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সমুদ্রের অতল গহ্বরে যে জীবন থেমে যায়নি, বরং নীরবে টিকে আছে- এই স্নেইলফিশ তারই জীবন্ত প্রমাণ।