ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সত্যিই কি সৌদিতে পালনের পর দিনই বাংলাদেশে ঈদ হয়

রূপালী ফিচার
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে ঈদ উদযাপনের পরদিনই বাংলাদেশে সাধারণত ঈদ পালিত হয়। প্রতি বছরই এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন- বাংলাদেশ কি সৌদি আরবকে অনুসরণ করে ঈদ পালন করে? আবার কেউ কেউ দেশের চাঁদ দেখা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। আসলে বিষয়টি ধর্মীয় যতটা, তার চেয়ে বেশি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভূগোলের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই প্রতিবেদনে জানাব কেন সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে ঈদ হয়...

ইসলামি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণ চন্দ্রভিত্তিক। তাই মাস শুরু ও শেষ, অর্থাৎ ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয় নতুন চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলিম দেশই এই নিয়ম অনুসরণ করে।

তবে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে- সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা হলেও কেন সেখানে এক দিন আগে ঈদ হয়?

সৌর সময় অনুযায়ী বাংলাদেশ সৌদি আরবের চেয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা এগিয়ে। তাই অনেকের ধারণা হতে পারে, বাংলাদেশে আগে চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। কারণ, চাঁদ দেখার বিষয়টি শুধু সময়ের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে সূর্য ও চাঁদের মধ্যকার কৌণিক দূরত্বের ওপর।

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে। এ কারণে সূর্যকে আমরা পূর্ব দিকে উদিত হতে দেখি। কিন্তু নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- চাঁদ সূর্য থেকে কতটা দূরে সরে গেছে।

খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখতে হলে সূর্য ও চাঁদের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব সাধারণত কমপক্ষে ১০.৫ ডিগ্রি হতে হয়। এই দূরত্ব তৈরি হতে চাঁদের প্রায় ১৭ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এই দূরত্বকে বলা হয় ইলংগেশন।

এই কারণেই কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেশেও দেখা যাবে- এমন ধারণা সঠিক নয়। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর বাংলাদেশে সেই প্রয়োজনীয় কৌণিক দূরত্ব তৈরি হতে আরও সময় লাগে। ফলে বাংলাদেশে সাধারণত এক দিন পরে চাঁদ দেখা যায় এবং পরদিন ঈদ উদযাপিত হয়।

অন্যদিকে পৃথিবীর সব অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এক নয়। বিভিন্ন এলাকার দ্রাঘিমা ও কৌণিক অবস্থানের কারণে একই সময়ে সব জায়গায় চাঁদ দৃশ্যমান হয় না। এ কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন দিনে ঈদ পালিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ধর্মীয় বিভেদ নয়; বরং প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা।

চন্দ্রবর্ষের হিসাবে বিশ্বের মুসলমানরা মূলত একই সময়চক্র অনুসরণ করেন। কিন্তু ইংরেজি বা সৌর ক্যালেন্ডারের তারিখের পার্থক্যের কারণে আমাদের কাছে মনে হয় একেক দেশে একেক দিনে ঈদ হচ্ছে।

অর্থাৎ, সময় অঞ্চল ও ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণেই সৌদি আরবের পরদিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও স্বাভাবিক একটি বিষয়।