× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম। আবহাওয়া ও জাতভেদে এই ফলের আগমন ও শেষ হওয়ার সময় কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমের মৌসুম শুরু হয় সাধারণত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে মে মাসে। এরপর মে ও জুন মাসে বাজারে আমের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া গেলেও কিছু জাতের পাকা আম আগস্টের শুরু পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক পুষ্টি ডাটাবেজ ও স্বাস্থ্য গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালোরি শক্তি। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৫ থেকে ১৭ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৮ গ্রাম এবং ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম, প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ গ্রাম। পাশাপাশি ডায়েটারি ফাইবার থাকে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গ্রাম।

ভিটামিনের মধ্যে আমে ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন) থাকে ৫০০ থেকে ১০০০ আই ইউ, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি৬ থাকে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম, ফোলেট বি৯ থাকে প্রায় ১৪ থেকে ২০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন ই এবং সামান্য ভিটামিন কে-ও এতে পাওয়া যায়।

এ ছাড়া খনিজ উপাদানের ক্ষেত্রে আমে পটাশিয়াম থাকে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রাম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম প্রায় ১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস থাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম, আয়রন প্রায় ০.২ থেকে ০.৩ মিলিগ্রাম এবং অল্প পরিমাণে জিঙ্ক বিদ্যমান থাকে।

এ ছাড়া আমে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ) এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনল থাকায় এটি শরীরের কোষ সুরক্ষায় সাহায্য করে। তবে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন, আম পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

আম কতটুকু খাওয়া নিরাপদ ?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে গড়ে ১ থেকে ২টি মাঝারি আকারের আম বা প্রায় ২০০–৩০০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি জমে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ আমে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ) থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত— দিনে সর্বোচ্চ অর্ধেক থেকে ১টি ছোট আম খেতে পারেন তবে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে ভাগ করে খাওয়া উচিত। খালি পেটে আম না খাওয়াই ভালো এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত আম খেলে যে সমস্যা হতে পারে

পুষ্টিবিদদের মতে, বেশি আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, হজমে সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিক, ত্বকে অ্যালার্জি বা ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন ও কীভাবে আম খাওয়া ভালো

একবারে বেশি না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া, খাবারের পর বা স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া, আমের সঙ্গে দই বা বাদাম খেলে শর্করার প্রভাব কিছুটা কমে। সর্বোপরি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত।

যারা বেশি সতর্ক থাকবেন

ডায়াবেটিস রোগী ছাড়াও শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের ওজন বেশি—তাদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আম পুষ্টিকর হলেও পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত— না হলে উপকারের বদলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!