× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

সংসার ভাঙার ৪ অদৃশ্য কারণ

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দাম্পত্য জীবন কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি দীর্ঘ পথচলা। কিন্তু আধুনিক সময়ে অনেক দম্পতি একই ছাদের নিচে থেকেও এক গভীর একাকিত্বে ভুগছেন। চিনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মনোবিজ্ঞানী লুয়ো মিংজিন তার ‘লাইফ নেভার এন্ডস’ বইয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে ছোট ছোট অমিল জমে পাহাড় সমান দূরত্ব তৈরি করে।

হাজারো কাউন্সেলিংয়ের অভিজ্ঞতায় তিনি চারটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন যা একটি সাজানো সংসারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

১. দায়িত্বের সংঘাত: ‘যুগল নাচে’ তালের অভাব

ড. লুয়োর মতে, দাম্পত্য হলো একটি যুগল নাচ। যদি সঙ্গীদের মধ্যে তালে তাল না মেলে, তবে একজনের পায়ের ওপর অন্যজনের পা পড়বেই। বিশেষ করে আধুনিক কর্মজীবী দম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অমিল প্রকট।

স্বামী যদি সেকেলে চিন্তা লালন করেন আর স্ত্রী যদি সব কাজে সমবন্টন চান, তবেই শুরু হয় ফাটল।

সমাধান: অস্পষ্ট অভিযোগ না করে দায়িত্বগুলো স্পষ্টভাবে ভাগ করে নিন। প্রয়োজনে লিখিত তালিকা তৈরি করুন। ‘তুমি কিছু করো না’ বলার চেয়ে ‘আমি রান্না করছি, তুমি কি ঘরটা গুছিয়ে দেবে?’—এমন অনুরোধের ভাষা ব্যবহার করুন।

২. যোগাযোগের ফ্রিকোয়েন্সি বিভ্রাট

স্বামী ও স্ত্রীর কথোপকথন যখন দুটি ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির রেডিওর মতো হয়ে যায়, তখন দূরত্ব বাড়তে থাকে। স্ত্রীর আবেগঘন কথাকে অনেক সময় স্বামী ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেন। আবার স্বামীর নীরবতাকে স্ত্রী মনে করেন অবহেলা বা ‘নীরব সহিংসতা’।

সমাধান: প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত ৩০ মিনিট ‘ডিজিটাল ফ্রি’ সময় কাটান। মোবাইল-টিভি সরিয়ে রেখে একে অপরের কথা শুনুন। অভিযোগ নয়, কেবল অনুভূতি ভাগ করে নিন।

৩. ‘ইন-ল’ ফ্যাক্টর ও অভ্যন্তরীণ নিঃসঙ্গতা

সংসারের ভেতর তৃতীয় পক্ষের (বাবা-মা বা শ্বশুরবাড়ি) অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ অনেক সময় বিষিয়ে তোলে সম্পর্ক। বিশেষ করে স্বামী যদি মা এবং স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারেন, তবে স্ত্রী নিজের ঘরেই নিজেকে প্রবাসী মনে করতে শুরু করেন।

সমাধান: দম্পতিকে আগে একমত হতে হবে যে, তাদের নিজস্ব সম্পর্কটিই সবার আগে। নিজের বাবা-মাকে সামলানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সঙ্গীর। সরাসরি আক্রমণ না করে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া আগে সেরে নিন।

৪. ব্যক্তিগত বিকাশে অসম গতি

সময়ের সাথে সাথে একজন সঙ্গী যখন মানসিকভাবে নিজেকে উন্নত করেন এবং অন্যজন স্থবির থাকেন, তখন তাদের রুচি ও চিন্তার পার্থক্য বিশাল হয়ে দাঁড়ায়। এটি দীর্ঘমেয়াদে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ।

সমাধান: দুজন মিলে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। একজন বই পড়লে বা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করলে তা সঙ্গীর সাথে সহজভাবে ভাগ করে নিন। যাতে একে অপরের মানসিক বৃদ্ধির অংশীদার হওয়া যায়।

সংকট সামলাবেন কীভাবে? (অ্যাকশন প্ল্যান)

ড. লুয়ো মিংজিন সম্পর্কের ক্ষত সারাতে তিনটি পর্যায়ের পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো....

স্বল্প মেয়াদ (১-৭ দিন): ঝগড়ার পরপরই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগে নিজেকে শান্ত করুন। হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চার মাধ্যমে রাগ কমানোর চেষ্টা করুন।

মধ্য মেয়াদ (১-৩ মাস): এই সময়টা আত্মসমালোচনার। কথা বলার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন। প্রয়োজনে পেশাদার ম্যারেজ কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

দীর্ঘ মেয়াদ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন। সম্পর্ক টিকে থাকুক বা না থাকুক, নিজের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিন। জীবনের লক্ষ্য নতুন করে স্থির করুন।

সংসার ভাঙা বা গড়া—সবটাই নির্ভর করে সদিচ্ছার ওপর। লুয়ো মিংজিনের মতে, সমস্যা চিহ্নিত করতে পারা মানেই সমাধানের অর্ধেক পথ পাড়ি দেওয়া। একে অপরকে কাঠগড়ায় না দাঁড় করিয়ে বরং দুজনে মিলে সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করাই হলো আদর্শ দাম্পত্য।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!