কংক্রিটের দেয়াল, ট্রাফিক জ্যাম আর কাজের চাপে দম বন্ধ হয়ে আসা-শহুরে জীবনে এমন অনুভূতি নতুন কিছু নয়। অনেক সময় মন ভালো করার জন্য বিশাল কোনো পরিকল্পনা বা লম্বা ছুটির প্রয়োজন হয় না; কেবল এক বেলার জন্য খোলা আকাশ আর সবুজের ছোঁয়া পাওয়াই যথেষ্ট। আপনি কি জানেন, ঢাকার একদম কাছেই এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে নিমিষেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে?
চলুন জেনে নিই ঢাকার আশেপাশে একদিনের সফরের সেরা কিছু গন্তব্য:
১. মৈনট ঘাট: ঢাকার বুকে ‘মিনি কক্সবাজার’
দোহারের কার্তিকপুরে অবস্থিত মৈনট ঘাট এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। পদ্মার উত্তাল জলরাশি আর পাড়ে আছড়ে পড়া ঢেউ আপনাকে সমুদ্রের অনুভূতি দেবে।
বিশেষ আকর্ষণ: সূর্যাস্তের সময় পদ্মার পাড়ে বসে ইলিশ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া আর ট্রলারে করে বিশাল জলরাশি পাড়ি দেওয়া।
যাতায়াত: ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে চড়ে সরাসরি মৈনট ঘাট যাওয়া যায়।
২. গোলাপ গ্রাম: রঙের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া
সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামটি এখন সারা দেশে 'গোলাপ গ্রাম' নামে পরিচিত। যেদিকে চোখ যাবে কেবল লাল গোলাপের সমুদ্র।
বিশেষ আকর্ষণ: বিকেলের নরম রোদে শত শত বিঘা জমিতে গোলাপের সমারোহ দেখে আপনার সব বিষণ্ণতা ধুয়ে যাবে। ছবি তোলার জন্য এটি সেরা জায়গা।
যাতায়াত: মিরপুর দিয়াবাড়ি বা গাবতলী থেকে ট্রলারে করে বিরুলিয়া বা সাদুল্লাপুর ঘাটে নামলেই পৌঁছে যাবেন।
৩. জিন্দা পার্ক: এক টুকরো শান্ত তপোবন
পূর্বাচলের কাছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্ক। এটি কোনো সাধারণ পার্ক নয়, বরং স্থানীয়দের ত্যাগে গড়া এক সাজানো গোছানো শান্ত গ্রাম।
বিশেষ আকর্ষণ: বিশাল দিঘি, চমৎকার আর্কিটেকচারের লাইব্রেরি আর বসার জন্য পর্যাপ্ত ছায়াঘেরা জায়গা। এখানে নেই কোনো যান্ত্রিক হট্টগোল, আছে শুধু পাখির ডাক।
যাতায়াত: কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিআরটিসি বা লোকাল বাসে করে সরাসরি জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়।
৪. পানাম নগর ও বড় সর্দার বাড়ি
ইতিহাস প্রেমীদের জন্য সোনারগাঁয়ের পানাম নগর চিরকালই প্রিয়। ধ্বংসাবশেষের মাঝ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আপনি পাবেন কয়েকশ বছর আগের আভিজাত্যের ঘ্রাণ।
বিশেষ আকর্ষণ: পানাম নগরের রহস্যময় গলি এবং পাশের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের ভেতরে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর 'বড় সর্দার বাড়ি'।
যাতায়াত: গুলিস্তান বা সায়েদাবাদ থেকে সোনারগাঁগামী বাসে উঠে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামতে হবে।
৫. বছিলা রিভার ভিউ ও ওয়াটার বাস রাইড
যাদের একদমই সময় নেই, তারা বিকেলের দিকে চলে যেতে পারেন মোহাম্মদপুর বছিলা ঘাটে।
বিশেষ আকর্ষণ: ওয়াটার বাসে চড়ে তুরাগ নদীর ওপর দিয়ে ঘুরে আসা। নদীর ওপর খোলা বাতাসে কিছু সময় কাটালে শরীর ও মন দুই-ই চাঙা হয়ে ওঠে।
ভ্রমণে কিছু জরুরি টিপস:
আগে বের হোন: জ্যাম এড়াতে এবং দিনটি পুরোপুরি উপভোগ করতে সকাল সকাল রওনা দিন।
সাথে যা রাখবেন: রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা ক্যাপ, পাওয়ার ব্যাংক এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি।
পরিবেশ রক্ষা: আপনি যেখানেই যান, দয়া করে সেখানে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
মন ভালো করার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। যান্ত্রিকতাকে এক দিনের ছুটি দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো কয়েকটা ঘণ্টা আপনার পুরো সপ্তাহকে করে তুলবে প্রাণবন্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন