রমজান মাসে ইফতারের দস্তরখানে যে ফলটি ছাড়া অপূর্ণতা থেকে যায়, তা হলো খেজুর। কেবল সুন্নাহ পালনই নয়, বরং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করতে খেজুরের বিকল্প খুঁজে পাওয়া ভার। ধর্মীয় তাৎপর্য এবং স্বাস্থ্যগুণ উভয় দিক থেকেই ইফতারে খেজুরের গুরুত্ব অপরিসীম।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব ও সুন্নাহ
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, খেজুর দিয়ে ইফতার করা ‘মুস্তাহাব’ বা পছন্দনীয় কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন এবং সাহাবিদেরও তা করতে উৎসাহিত করতেন।
রাসুল (সা.) বলেন ‘তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা এতে বরকত রয়েছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং- ২৩৫৫)
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খেজুরকে একটি বরকতময় ফল হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি ইফতারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মুসলিম সংস্কৃতিতে মিশে আছে।
২. স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা : বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে
সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন আসে, তা সামাল দিতে খেজুর জাদুর মতো কাজ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, এর প্রধান কারণগুলো হলো:
তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি : খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ)। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করে।
হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা : খেজুরে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকে। ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়ার ফলে যে কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা হতে পারে, তা প্রতিরোধে খেজুর কার্যকর।
পটাশিয়ামের উৎস : দীর্ঘক্ষণ পানি না পানের ফলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব হতে পারে। খেজুর পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা পেশির খিঁচুনি রোধ করে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ : এটি শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ইফতারে খেজুর কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং এটি একটি আদর্শ ‘সুপারফুড’। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ইফতার কমিয়ে অন্তত দু-তিনটি খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা। এতে একদিকে যেমন রাসুলের (সা.) সুন্নাহ আদায় হয়, অন্যদিকে শরীরও থাকে প্রাণবন্ত ও রোগমুক্ত।


