ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রমজানে ত্বকের যত্ন, সতর্কতা ও ঘরোয়া প্রতিকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
রমজানে ত্বকের যত্ন। ছবি : সংগৃহীত

রোজায় দীর্ঘ সময় খাওয়া-দাওয়া, পানি পান থেকে বিরত থাকা হয়। এর প্রভাব শরীর ও ত্বকে পড়ে। অনেকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। খাদ্য তালিকায় পানিসমৃদ্ধ খাবার, যেমনডাবের পানি, লাচ্ছি, সবজি স্যুপ ও দই রাখতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকুন। কারণ, ক্যাফেইন শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে। 

১. পানিশূন্যতা ও ত্বকের ওপর এর প্রভাব
রোজায় দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা এবং চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য।

২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সেহরি ও ইফতারে কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করা জরুরি—

ফল ও সবজি : ইফতারে শসা, তরমুজ, মাল্টা বা পেঁপের মতো রসালো ফল রাখুন।

ভাজাপোড়া বর্জন : অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। তাই গ্রিলড বা সেদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

দই ও পনির : প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে।

৩. বাহ্যিক যত্ন (Skin Care Routine)
দিনের বেলা ত্বকের যত্ন নিতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে—

ময়েশ্চারাইজার : ত্বক যেন অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়ে যায়, সে জন্য দিনে অন্তত দুবার ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

সানস্ক্রিন : রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন, কারণ ডিহাইড্রেটেড ত্বক রোদে দ্রুত পুড়ে যায়।

ঠান্ডা পানির ঝাপটা: ক্লান্তি দূর করতে এবং ত্বক সতেজ রাখতে বারবার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

৪. প্রাকৃতিক ফেসপ্যাকের ব্যবহার
ঘরে বসেই ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে কিছু সহজ প্যাক ব্যবহার করা যায়:

মধু ও শসা : শসার রস ও মধু মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে।

অ্যালোভেরা জেল : রোজা রেখে ত্বক যখন প্রাণহীন মনে হয়, তখন অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করলে দ্রুত সজীবতা ফেরে।

গোলাপ জল : রাতে ঘুমানোর আগে তুলোয় গোলাপ জল নিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের পিএইচ (pH) ব্যালেন্স ঠিক থাকে।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
রমজানে সেহরি ও ইবাদতের কারণে ঘুমের সময় কিছুটা কমে যায়। তবে মনে রাখবেন, অনিদ্রার ছাপ সবার আগে চোখের নিচে পড়ে। তাই রাতে অন্তত ছয়-সাত ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের চেষ্টা করুন।

রমজানের এই পবিত্র মাসে ইবাদতের পাশাপাশি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াও একটি দায়িত্ব। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সামান্য বাহ্যিক যত্ন নিলেই রোজার ক্লান্তি ছাপিয়ে আপনার ত্বক থাকবে সতেজ ও উজ্জ্বল।