ক্যানসার চিকিৎসায় বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে হেড-নেক (মাথা ও ঘাড়) ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এখন বিপ্লব নিয়ে এসেছে ‘ইমিউনোথেরাপি’। প্রচলিত কিমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির পাশাপাশি এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীদের আয়ু বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
হেড-নেক ক্যানসার কী?
নাক, কান, গলা, মুখগহ্বর, জিহ্বা এবং থাইরয়েডের মতো সংবেদনশীল জায়গায় হওয়া ক্যানসারকে একত্রে হেড-নেক ক্যানসার বলা হয়। বাংলাদেশে তামাক ও জর্দা ব্যবহারের কারণে এই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি।
ইমিউনোথেরাপি কীভাবে কাজ করে?
ক্যানসার কোষগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে। ইমিউনোথেরাপি মূলত শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে, যাতে শরীর নিজেই ক্যানসার কোষগুলোকে চিনে নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারে।
কেন এটি আশার আলো?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হেড-নেক ক্যানসার যখন অ্যাডভান্সড বা ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় থাকে, তখন অনেক সময় প্রচলিত সার্জারি বা কিমোথেরাপি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে পারে না। ইমিউনোথেরাপি সেই সব রোগীদের জন্য কার্যকর সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যাদের ক্যানসার বারবার ফিরে আসে (Recurrent) বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে (Metastatic)।
ইমিউনোথেরাপির প্রধান সুবিধাগুলো:
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম: কিমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপিতে চুল পড়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম দেখা যায়।
দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব: এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করে যে, চিকিৎসা বন্ধ করার পরও শরীর দীর্ঘদিন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।
সাফল্যের হার: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগীর ওপর অন্যান্য চিকিৎসা কাজ করছিল না, ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে তাদের জীবনকাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা
বর্তমানে বাংলাদেশের কিছু বিশেষায়িত হাসপাতালে ইমিউনোথেরাপি শুরু হয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে অনেকটা। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ইমিউনোথেরাপি নয়, ক্যানসার থেকে বাঁচতে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করা সবচেয়ে জরুরি।
হেড-নেক ক্যানসার এক সময় অজেয় মনে হলেও ইমিউনোথেরাপির আগমনে এখন তা নিয়ন্ত্রণের পথে। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক এই চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা গ্রহণ করতে পারলে ক্যানসারজয়ীদের হার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


