চলতি বছরেই বিশ্ব এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এটি ‘ব্লাড মুন’ নামেও পরিচিত। যারা রাতের আকাশ দেখতে ভালোবাসেন এবং মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য দারুণ সুযোগ এটি। জানা গেছে, যদি আকাশ মেঘমুক্ত থাকে তাহলে বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ।
চন্দ্রগ্রহণ কাকে বলে?
পৃথিবী যখন সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। একেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। আর পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যে গ্রহণ হতে চলেছে, সেটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। ৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত চলবে গ্রহণ।
‘ব্লাড মুন’ কী?
গ্রহণের সময় যখন চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন বায়ুমণ্ডলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে নীল আলো শোষণ করে নেয়। ফলে শুধুমাত্র লাল ও কমলা রঙের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এজন্য চাঁদে দেখা যায় এক রক্তিম আভা। তাই এই ঘটনাকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
কোথায় দেখা যাবে এই গ্রহণ?
এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ সমগ্র এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর- কলকাতা, নয়াদিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, পুনে, লখনৌ, হায়দ্রাবাদ, চণ্ডিগড় থেকে এই মহজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। দেখা যাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও। তবে মেঘ বা দূষণের কারণে যদি দৃশ্যমানতা প্রভাবিত হয় তাহলে এই মহজাগতিক দৃশ্য দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এই চন্দ্রগ্রহণ ৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হয়ে পরের দিন অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত চলবে। মোট ৭ ঘণ্টা ২৭ মিনিট স্থায়ী হবে গ্রহণ। তবে পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময়টাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এই সময়েই দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’।
বাংলাদেশ সময় ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২৮ মিনিট থেকে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। তবে খালি চোখে চাঁদের এই পরিবর্তন খুব একটা বোঝা যাবে না। রাত ৯টা ২৭ মিনিট থেকে চাঁদের একটি অংশ ধীরে ধীরে কালো হতে দেখা যাবে। রাত সাড়ে ১০টায় পৃথিবীর ছায়া পুরোপুরি চাঁদের উপরে পড়বে। এই মুহূর্তে চাঁদ পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না, বরং লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করবে।