ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৫:০০ এএম
ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরবর্তী কোনো তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জনের মধ্যেই শুক্রবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে অংশ নেবেন পৌনে ১১ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।

এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রংপুর থেকে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষা এক দফা পিছিয়ে দেওয়া এবং প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠানোর পর প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করছেন গড়ে প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।