ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কোনো বিচারপতিকে তত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করার প্রয়োজন নেই : আইনমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০১:০৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একজন প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর থেকেই ওই পদে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতিদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা দেখা গেছে। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজন সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনৈতিক কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আগের সরকারের সময়ে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আদালত বসিয়ে বিচারের নামে সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এখনও জবাবদিহির বাইরে রয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ফেরেশতার মতো দেখি। তারা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদও দেখেছি।’

সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা ও সানজিদা ইসলাম তুলি, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জেলা ও দায়রা জজ শামসুদ্দিন মাসুম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও খালেদ হামিদ চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, গুমসংক্রান্ত আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আইনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেভাবে গুম কমিশন অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল, তাতে অপরাধীরাই বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পেত। তাই সেটিকে আরও সময়োপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে, তাতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, একইসঙ্গে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মধ্যেও গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে তদন্ত ও বিচার হবে।’

তিনি জানান, সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম নিয়ে একটি কার্যকর আইন করতে চায়, যাতে কমিশনটি ‘নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত না হয়। যুগোপযোগী ও কল্যাণমুখী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় তিনি নতুন প্রজন্মকে মেধার ভিত্তিতে সঠিক জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে ফেলেছি।’

সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে গুম করা হয়েছিল। এরপর আরও অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গুম সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাইনি। দেশ থেকে গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে।’ একইসঙ্গে অতীতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।