ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নবজাতকের ত্বকের যত্নে এই ৫ ভুল করছেন না তো!

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

নবজাতক মানেই নরম, তুলতুলে ত্বক। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বাইরে থেকে যতটা সুন্দর লাগে, ভেতরে ভেতরে শিশুর ত্বক ততটাই সংবেদনশীল। বড়দের তুলনায় নবজাতকের ত্বক অনেক পাতলা, সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়, আর অল্পতেই লালচে ভাব বা র‍্যাশ দেখা দেয়।

ভারতের পুনের অ্যাপোলো হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আদিত্য হোলানি জানাচ্ছেন, ভালোবাসা থেকে অনেক বাবা-মাই এমন কিছু কাজ করেন, যা আসলে শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে দেওয়া তার এক সাক্ষাৎকার অনুসারে চলুন জেনে নিই শিশুর ত্বকের যত্নে ৫ টি সাধারণ ভুল এবং এর সহজ সমাধান -

১। খুব ঘন ঘন আর দীর্ঘ সময় গোসল করানো

অনেকেই ভাবেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করালে শিশুর ত্বক পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু বাস্তবে এতে শিশুর ত্বকের স্বাভাবিক তেল উঠে যায়। ত্বক শুকিয়ে যায়, জ্বালা ধরে।

বিশেষজ্ঞের মতে- নবজাতকের জন্য প্রতিদিন গোসল জরুরি নয়। সপ্তাহে কয়েক দিন অল্প সময়ের জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসলই যথেষ্ট। ব্যবহার করুন হালকা, গন্ধহীন বেবি ক্লিনজার। শিশু একটু বড় হলে দিনে একবার গোসল করালেই চলে।

২। গোসলের পর ক্রিম না লাগানো

গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে সরাসরি কাপড় পরিয়ে দেওয়া- এই অভ্যাস রয়েছে অনেকের। এতে শিশুর ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত উবে যায়। ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে।

সঠিক উপায় হলো- গোসলের পর আলতো করে মুছুন। ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই গন্ধহীন বেবি ময়েশ্চারাইজার লাগান। গাল, ঘাড়ের ভাঁজ, হাঁটু আর পায়ের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখুন। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক থাকবে নরম আর আরামদায়ক।

৩। ট্যালকম পাউডার আর কড়া গন্ধের পণ্য

ট্যালকযুক্ত পাউডার থেকে খুব সূক্ষ্ম গুঁড়া বাতাসে ছড়ায়। শিশুর শ্বাসের সঙ্গে তা ফুসফুসে ঢুকে ক্ষতি করতে পারে। তাই এখন অনেক চিকিৎসক ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ ছাড়া সুগন্ধি সাবান, লোশন বা পারফিউম শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি বা একজিমা তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে কর্নস্টার্চভিত্তিক পাউডার অল্প করে হাতে নিয়ে ব্যবহার করুন। শিশুর মুখের কাছে কখনোই পাউডার দেবেন না।

৪। রোদে বেরোনোর সময় অসতর্কতা

শৈশবে একবার তীব্র রোদে পুড়ে যাওয়া ভবিষ্যতে ত্বকের বড় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে যতটা সম্ভব সরাসরি রোদে না নেওয়াই ভালো।

ছয় মাসের বেশি বয়স হলে বাইরে বেরোনোর সময় ঢিলেঢালা কাপড়, টুপি ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে মিনারেলভিত্তিক সানস্ক্রিন লাগাতে পারেন। দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

৫। ভেজা ডায়াপার

ডায়াপার ভেজা বা নোংরা অবস্থায় বেশি সময় থাকলে শিশুর ত্বকে ঘষা লাগে। ভেজাভাব আর মলমূত্রের সংস্পর্শে ডায়াপার র‍্যাশ দ্রুত হয়।

প্রতিবার ডায়াপার বদলের সময় পরিষ্কার পানি বা অ্যালকোহলমুক্ত ওয়াইপ দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করুন। জায়গাটা ভালো করে শুকিয়ে নিন। তারপর জিঙ্ক অক্সাইড বা পেট্রোলিয়াম জেলিভিত্তিক ক্রিম মোটা করে লাগান। বিশেষ করে রাতে এটা খুব জরুরি।

নবজাতকের ত্বকের যত্ন মানে বেশি কিছু করা নয়। বরং কম জিনিসে, সহজ নিয়মে, নিয়মিত যত্নই সবচেয়ে ভালো। শিশুর ত্বক নিজেই বলে দেয় সে কেমন আছে। একটু মনোযোগ, একটু ধৈর্য আর কিছু সঠিক অভ্যাসেই আপনার সন্তানের ত্বক থাকবে সুস্থ, নরম আর নিরাপদ।