× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ : লোকজ ঐতিহ্য নাকি শহুরে প্রথা?

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ : লোকজ ঐতিহ্য নাকি শহুরে প্রথা?  ছবি : সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ : লোকজ ঐতিহ্য নাকি শহুরে প্রথা? ছবি : সংগৃহীত

কাঠফাটা রোদ আর কালবৈশাখীর গান গেয়ে যখন নববর্ষের আগমন ঘটে, তখন বাঙালির পাতে পড়ে পান্তা-ইলিশ। শহর থেকে গ্রাম- বর্তমানে এই খাবারটি নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, বৈশাখে কেন পান্তা-ইলিশ খেতে হবে? এটি কি আমাদের সুপ্রাচীন কোনো ঐতিহ্য, নাকি আধুনিক নাগরিক সংস্কৃতির অংশ?

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের সাথে ‘পান্তা-ইলিশ’ বর্তমানে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর পেছনে যেমন সাংস্কৃতিক ইতিহাস আছে, তেমনি রয়েছে কিছু ভিন্নমত। 

১. পান্তা-ইলিশের পেছনের ইতিহাস
বাস্তবিক অর্থে পান্তা ভাত ছিল গ্রামীণ বাংলার কৃষকের সাধারণ খাবার। রাতে বেঁচে যাওয়া ভাত নষ্ট না করে তাতে পানি দিয়ে রাখা হতো, যা পরের দিন সকালে পুষ্টি ও প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠত। তবে এর সাথে ‘ইলিশ’ যুক্ত হওয়ার ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রথম পান্তা-ইলিশ চালুর প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তা শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে একটি ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়।

২. কেন এই আয়োজন?
শেকড়ের সন্ধান : যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত মানুষ বছরের একটি দিনে অন্তত কৃষিজীবী বাঙালির সাধারণ খাবারের স্বাদ নিতে চায়। পান্তা ভাত এখানে দারিদ্র্যের প্রতীক নয়, বরং শেকড়ের সাথে যুক্ত হওয়ার একটি মাধ্যম।

উৎসবের আমেজ: মাটির সানকিতে লাল মরিচ, পেঁয়াজ আর ভাজা ইলিশের সাথে পান্তা খাওয়ার মধ্যে এক ধরনের ভিন্নধর্মী উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়, যা সাধারণ পোলাও-মাংসের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

৩. সময় ও পরিবেশগত বাস্তবতা (একটি ভিন্ন দৃষ্টি)
যদিও ইলিশ বাঙালির প্রিয় মাছ, তবে বৈশাখ মাস ইলিশের বংশবৃদ্ধির সময়। এই সময়ে জাটকা নিধন রোধে সরকারিভাবে ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে।

সচেতনতা: পরিবেশবাদী এবং অনেক সংস্কৃতিমনা মানুষ মনে করেন, বৈশাখে ইলিশ খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বরং এই সময় ইলিশকে রক্ষা করলে সারা বছর আমরা সুলভে এই মাছ পেতে পারি। 

৪. পান্তার বিকল্প অনুষঙ্গ
পান্তা ভাতের সাথে যে কেবল ইলিশই হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। ঐতিহাসিকভাবে পান্তার সাথে শুঁটকি ভর্তা, বেগুন ভাজি, আলু ভর্তা, কাঁচামরিচ এবং পিঁয়াজই ছিল আসল অনুষঙ্গ। বর্তমানে পোর্টালে বা বাড়িতেও অনেকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পান্তা-ভর্তা দিয়ে বৈশাখ উদযাপনের দিকে ঝুঁকছেন।

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়া কোনো ধর্মীয় বা বাধ্যতামূলক বিধান নয়, বরং এটি একটি ‘সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ’। বৈশাখ মানেই নতুনকে আবাহন করা; তাই খাবারের থালায় ইলিশ থাক বা না থাক, আমাদের উৎসবের মূল সুর হওয়া উচিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাঙালিয়ানা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!