× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

পাতে থাকুক এক মুঠো শাক: পুষ্টি মিলবে হাজার গুণ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

পাতে থাকুক এক মুঠো শাক। ছবি : সংগৃহীত

পাতে থাকুক এক মুঠো শাক। ছবি : সংগৃহীত

বাঙালির খাদ্যতালিকায় ‘শাক-ভাত’ অতি পরিচিত শব্দ। কম খরচে এবং সহজে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা মেটাতে শাকের কোনো বিকল্প নেই। তবে সব শাকের গুণাগুণ এক নয়। নির্দিষ্ট কোনো রোগ প্রতিরোধে বা শরীরের বিশেষ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কোন শাকটি আপনার পাতে রাখা জরুরি, তা জানা থাকা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় কিছু শাকের পুষ্টির ভাণ্ডার

১. পালং শাক: খনিজ ও শক্তির আধার
পালং শাক ভিটামিন এ, সি, কে এবং ফলিক অ্যাসিডে ভরপুর। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। হাড়ের সুস্থতায়ও পালং শাক দারুণ কার্যকর।

২. লাল শাক: ক্যালসিয়ামের রাজা
লাল শাক কেবল রক্তেই লাল নয়, এটি রক্ত গঠনেও সাহায্য করে। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে এবং শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধিতে লাল শাকের ভূমিকা অপরিসীম।

৩. পুঁই শাক: হজম ও ত্বকের সুরক্ষায়
যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য পুঁই শাক মহৌষধ। এতে থাকা প্রচুর আঁশ বা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বককে সজীব রাখে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

৪. কলমি শাক: চোখের জ্যোতি ও অনিদ্রার সমাধানে
কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে। এটি দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, যাদের রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, তাদের জন্য কলমি শাক বেশ উপকারী; কারণ এটি শরীরকে শিথিল করে ও স্নায়ুকে শান্ত রাখে।

৫. সজনে পাতা: পুষ্টির ‘সুপারফুড’
বর্তমানে সজনে পাতাকে পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিকর খাবার বা ‘সুপারফুড’ বলা হয়। এতে দুধের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম এবং কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম আছে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৬. লাউ শাক: শরীর রাখতে ঠান্ডা
গরমের সময়ে লাউ শাক শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও আঁশ থাকায় এটি পানিশূন্যতা রোধ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৭. ধনে পাতা: হজমশক্তি ও হৃদযন্ত্রের বন্ধু
ধনে পাতা কেবল সুগন্ধি হিসেবেই নয়, এর রয়েছে বিশেষ ঔষধি গুণ। এতে থাকা ‘সিনেওল’ এবং ‘লিনোলিক অ্যাসিড’ শরীরের বাত ও ফোলা কমাতেও সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, কে এবং প্রোটিন। এটি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

৮. কচু শাক: আয়রনের খনি
যাঁদের হিমোগ্লোবিনের অভাব বা রক্তশূন্যতা রয়েছে, তাঁদের জন্য কচু শাক সেরা প্রাকৃতিক সমাধান। এটি শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ। এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর এবং শরীরের হাড় মজবুত করে।

৯. ডাঁটা শাক: আঁশ ও শক্তির উৎস
ডাঁটা শাক হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও পটাশিয়াম। এটি শরীরে রক্তকণিকা গঠনে সহায়তা করে এবং ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে কার্যকর।

১০. থানকুনি পাতা: পেটের অসুখ ও মস্তিষ্কের টনিক
থানকুনি মূলত একটি ভেষজ শাক। প্রাচীনকাল থেকেই পেটের পিড়া বা আমাশয় সারাতে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মূল পুষ্টি হিসেবে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন এবং খনিজ উপাদান। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। এছাড়া চুল পড়া কমাতেও থানকুনি পাতা বেশ কার্যকর।

১১. হেলেঞ্চা শাক: স্নায়ুর প্রশান্তি ও লিভারের সুরক্ষা
হেলেঞ্চা বা হিঞ্চে শাক একটু তিতকুটে স্বাদের হলেও এটি লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরকে ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এরমূল পুষ্টি আয়রন এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি স্নায়ু শিথিল করতে সাহায্য করে বলে অনিদ্রা দূর হয় এবং পিত্তজনিত সমস্যায় আরাম দেয়।

১২. কলমি শাক: সস্তায় পুষ্টির সেরা সমাধান
সাধারণত জলাশয় বা বিলের ধারে বেড়ে ওঠা এই শাকটি পুষ্টির দিক থেকে দামি অনেক সবজিকেও হার মানায়। চোখের জ্যোতি বাড়াতে কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারোটিন। এটি দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সতর্কতা ও পরামর্শ
পুষ্টিবিদদের মতে, শাক রান্নার সময় খুব বেশি সেদ্ধ করা উচিত নয়, এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া শাক সবসময় দিনের বেলায় খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত, কারণ রাতে শাক হজম করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে তবেই শাক রান্না করা নিশ্চিত করুন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!