প্রতিদিন চিরুনি বা বালিশে পড়ে থাকা চুল দেখে আমরা অনেকেই আঁতকে উঠি। সামান্য চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও, যখন এটি অতিরিক্ত আকার ধারণ করে, তখন তা হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তার বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়ার পেছনে যেমন রয়েছে পুষ্টির অভাব, তেমনি রয়েছে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও আধুনিক জীবনযাত্রার ধকল। তবে সঠিক ডায়েট এবং সময়মতো চিকিৎসায় এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১. চুল পড়া রোধে সেরা খাবার (পুষ্টি যখন প্রধান ওষুধ)
চুল ভেতর থেকে মজবুত করতে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদান খুবই জরুরি। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিচের খাবারগুলো যোগ করুন:
প্রোটিনের উৎস (ডিম ও মুরগির মাংস): চুল মূলত 'কেরাটিন' নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই পর্যাপ্ত প্রোটিন না খেলে চুল পাতলা হয়ে যায়। ডিমের বায়োটিন চুলের গোড়া মজবুত করে।
পালং শাক ও সবুজ সবজি: এতে থাকা আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন-এ চুলের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে। আয়রনের অভাবে নারীদের চুল পড়ার হার সবচেয়ে বেশি।
বাদাম ও বীজ: কাঠবাদাম, আখরোট এবং তিসির বীজে (Flaxseeds) থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।
টক ফল (ভিটামিন-সি): লেবু, কমলা বা আমলকী কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা চুলের অকাল পক্বতা ও পড়া রোধ করে।
সামুদ্রিক মাছ: এতে থাকা জিংক ও ওমেগা-৩ চুলের গোড়ার সংক্রমণ রোধ করে।
২. আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
ঘরোয়া উপায়ে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আধুনিক কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে:
পিআরপি থেরাপি (PRP Therapy): এটি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রোগীর নিজস্ব রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে মাথায় ইনজেক্ট করা হয়, যা মৃতপ্রায় চুলের গোড়া সজীব করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
মিনোক্সিডিল ও ফিনাস্টারাইড: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট লোশন বা ওষুধ ব্যবহার করলে বংশগত বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ হয়।
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট: যদি মাথার কিছু অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়, তবে আধুনিক রোবোটিক বা ম্যানুয়াল হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
লেজার থেরাপি: লো-লেভেল লেজার থেরাপির মাধ্যমে চুলের ফলিকলগুলোকে উদ্দীপ্ত করা হয়, যা চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।
৩. ঘরোয়া কিছু অভ্যাস যা এড়িয়ে চলবেন
ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো বন্ধ করুন।
অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু বা কালার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ।
চুল পড়া শুরু হলে প্রথমেই বাজারচলতি তেল বা বিজ্ঞাপনী লোশন ব্যবহার না করে এর মূল কারণ (যেমন- থাইরয়েড সমস্যা বা রক্তস্বল্পতা) খুঁজে বের করা জরুরি। তাই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ট্রাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন