সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় বাদামের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই বাদাম যদি হয় আখরোট, তবে পুষ্টির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ। দেখতে অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতো এই বাদামটি আসলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে দারুণ কাজ করে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে মাত্র কয়েকটা আখরোট রাখলে শরীরে আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
জেনে নিন নিয়মিত আখরোট খাওয়ার প্রধান কিছু উপকারিতা:
১. মস্তিষ্কের ধার বাড়ে
আখরোটকে বলা হয় ‘ব্রেইন ফুড’। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বয়সের সাথে সাথে স্মৃতিভ্রম বা আলঝেইমার্সের ঝুঁকি কমাতে এর জুড়ি নেই।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস
হার্টকে সুস্থ রাখতে আখরোট অত্যন্ত কার্যকর। এটি শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
৩. ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক
গবেষণায় দেখা গেছে, আখরোটে থাকা পলিফেনল এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার, যেমন— প্রস্টেট, ব্রেস্ট এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ শরীরে ক্যানসার কোষ তৈরিতে বাধা দেয়।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজমশক্তি বৃদ্ধি
আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া এটি অন্ত্রে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।
৫. উজ্জ্বল ত্বক ও মজবুত চুল
ভিটামিন-বি এবং ই-এর উৎস হওয়ায় আখরোট ত্বকের বলিরেখা দূর করতে এবং ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা বায়োটিন চুল পড়া কমিয়ে চুলকে লম্বা ও মজবুত করে তোলে।
৬. ভালো ঘুম নিশ্চিত করে
যাঁদের অনিদ্রার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য আখরোট বেশ উপকারি। এতে থাকা 'মেলাটোনিন' নামক যৌগ ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে কয়েকটি আখরোট খেলে ঘুমের মান উন্নত হয়।
পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আখরোট পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। দিনে ৪-৫টির বেশি আখরোট না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে ক্যালোরি বেশি থাকে। কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে ডায়েটে যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


