ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দিনে কতটুকু পানি পান করবেন এবং অতিরিক্ত পানের ঝুঁকি কী ?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
দিনে কতটুকু পানি পান করবেন। ছবি : সংগৃহীত

চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই সময় শরীরের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। কিন্তু সুস্থ থাকতে দিনে আসলে কত লিটার পানি পান করা উচিত? আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করা কি শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি পানের ক্ষেত্রে পরিমাণ এবং নিয়ম- উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দিনে কত লিটার পানি পর্যাপ্ত?
সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার (৮-১২ গ্লাস) পানি পান করা প্রয়োজন। তবে এই পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে:

শারীরিক পরিশ্রম: যারা রোদে কাজ করেন বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের অতিরিক্ত ১-২ লিটার পানি বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

লিঙ্গভেদে: সাধারণত পুরুষদের জন্য ৩.৭ লিটার এবং নারীদের জন্য ২.৭ লিটার তরল (পানি ও অন্যান্য পানীয়সহ) গ্রহণের পরামর্শ দেয় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

আবহাওয়া: বর্তমানের মতো তীব্র গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়, তাই তৃষ্ণা না পেলেও বিরতি দিয়ে পানি পান করা উচিত।

ডিহাইড্রেশন চেনার লক্ষণ
আপনার শরীর কি যথেষ্ট পানি পাচ্ছে? নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন:

প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া।

মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে আসা।

প্রবল মাথাব্যথা এবং ঝিমুনি ভাব।

কাজের মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অল্পতেই ক্লান্ত বোধ করা।

অতিরিক্ত পানি পানের ঝুঁকি: ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’
অনেকেই মনে করেন গরমে যত বেশি পানি পান করা যায় ততই ভালো। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত পানি পান শরীরের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'হাইপোনাট্রেমিয়া' (Hyponatremia) বলা হয়।

লবণের ভারসাম্য নষ্ট: অতিরিক্ত পানির কারণে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

কিডনির ওপর চাপ: আমাদের কিডনি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০০ মিলি থেকে ১ লিটার পানি নিষ্কাশন করতে পারে। এর বেশি পানি পান করলে কিডনি তা সামলাতে পারে না।

মস্তিষ্কে প্রভাব: অতিরিক্ত পানিতে কোষ ফুলে যেতে পারে, যা থেকে বমি বমি ভাব, খিঁচুনি এবং চরম পর্যায়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

গরমে সুস্থ থাকতে কিছু টিপস
১. একবারে বেশি না পান করা: একবারে ১-২ লিটার পানি পান না করে সারা দিনে অল্প অল্প করে পান করুন।

২. প্রাকৃতিক পানীয়: শুধু পানি না খেয়ে ডাবের পানি, ঘরোয়া লেবুর শরবত বা স্যালাইন খেতে পারেন যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে।

৩. ঠান্ডা ফল: তরমুজ, শসা বা আনারসের মতো জলীয় অংশ বেশি এমন ফল খাদ্যতালিকায় রাখুন।

৪. ক্যাফেইন এড়ানো: তীব্র গরমে চা বা কফি কম পান করা ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে ফেলে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার পর হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানি পান করবেন না। এতে শরীরের তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনে স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। সুস্থ থাকতে পরিমিত পানি পান করুন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।