দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ‘তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল’ এমন অভিযোগ উঠেছে অনেক আগেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই খালেদা জিয়ার মৌলিক মানবাধিকার ও চিকিৎসার অধিকার খর্ব করেছিল।
চিকিৎসার নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও অবহেলা
২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ নানাবিধ জটিলতায় আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার।
বিদেশে চিকিৎসায় বাধা: চিকিৎসকরা বারবার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করলেও আইনি অজুহাতে তা বারবার নাকচ করে দেয় হাসিনা সরকার।
হাসপাতাল বনাম জেল: গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে রাখা হলেও উন্নত প্রযুক্তির অভাব এবং সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব হয়নি বলে দাবি চিকিৎসকদের।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
বিএনপি নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা সরকার ভারতীয় মদদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বেগম জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছিল। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে বিরোধী শক্তিকে নেতৃত্বহীন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল কারাবন্দিই রাখা হয়নি, বরং সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন