সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত দলীয় শোক কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
সাত দিনের শোকের চতুর্থ দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা কবর জিয়ারত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।
স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই শায়িত খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন। তাদের অনেকেই বলেন, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন আজীবন দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন তিনি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এমন প্রার্থনাই জানান তারা।
বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। নতুন প্রজন্ম তার আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের দলীয় শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পরদিন বুধবার বিকেল ৩টার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।


