যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। মার্কিন দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তাঁর আগমনকে কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকায় ক্রিস্টেনসেন ব্যস্ত সময় কাটাবেন এবং সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন, যা ডিসেম্বরে সিনেটের অনুমোদন লাভ করে।
অনুমোদনের পর লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান অস্থিরতা ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে জোর দেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের সদস্য। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। তার অন্যান্য দায়িত্বস্থলের মধ্যে রয়েছে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটি। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পিটার হাসের পর দীর্ঘদিন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে পিটার হাস ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ লক্ষ্যে তারা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি চাপ সৃষ্টি করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। ক্রিস্টেনসেনের আগমনের পর যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আরও সক্রিয় হতে পারে, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারে এবং কোনো অনিয়ম হলে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও তিনি কাজ করবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ঢাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ক্রিস্টেনসেনের অভিজ্ঞতা আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নেতাকর্মীর সঙ্গেও তিনি পরিচিত, যা তাঁর কাজকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন