ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা হচ্ছে ৫০ শতাংশ 

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে। নবম পে-স্কেলে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন)। এই সুপারিশ আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

পূর্বে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের মাত্র ২০ শতাংশ হিসেবে বৈশাখী ভাতা পেতেন। পে-কমিশন এবার তা দুই গুণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করছে। তবে ঈদ বোনাস আগের মতোই থাকবে।

একই সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে। নবম পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৩,৫০০ টাকা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পে-কমিশন দুই ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা ভাতা সুপারিশ করেছে। ৪০ বছরের কম বয়সীদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাব করা হচ্ছে।

পে-কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘বয়স্কদের ঔষধ ও চিকিৎসায় খরচ বেশি হয়। এজন্য তাদের ভাতা কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে। অবসরের পরও সরকারি কর্মচারীরা মাসিক ৫,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।’

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে বিসিএস কর্মকর্তাদের বেতন ২২,০০০ টাকা, এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিবদের বেতন ৭৮,০০০ থেকে ৮৬,০০০ টাকার মধ্যে।

যদিও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে যথেষ্ট বরাদ্দ রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১,০৬,৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূল বেতন বা ভাতার যেকোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তবে রাজস্ব ঘাটতি, সুদের উচ্চ ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে কি না তা এখনও অজ্ঞাত। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “পে-কমিশন শক্তিশালী প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন করা ভিন্ন ও কঠিন বিষয়।”