রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় আহত সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম আবিদ (১১) ছয় মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুর্ঘটনায় আহত সর্বশেষ রোগীকে আজ দুপুর ১২টার দিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস নিবিড় চিকিৎসা শেষে আজ তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তার শরীরে মোট ৩৬টি অপারেশন করা হয়েছে এবং শরীরের ২২ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, আবিদুর রহিমের ছাড়পত্রের মাধ্যমে ওই দুর্ঘটনায় আহত মোট ৩৬ জন রোগীর সবাই চিকিৎসা শেষে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম জানান, আমাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের মোয়াকোলা পূর্বপাড়া গ্রামে। আমরা বর্তমানে সবাই ঢাকার উত্তরায় একটি বাসায় বসবাস করি। আমার বড় মেয়ে রাইসা (১৩) মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছেলে আবিদ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বিমান দুর্ঘটনায় তার দুই হাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশসহ মোট ২২ ভাগ আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়া তার শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ফাইটার জেট মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই তলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন।


