ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জুলাই ঐক্য। ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও মোড় থেকে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা। তবে ইসি ভবনের সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে, যা এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ তিনি অবিলম্বে দল-মত নির্বিশেষে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং গণহত্যায় জড়িত সব প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান।
সংগঠক প্লাবন তারেক বলেন, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদে গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে। ‘যারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের আবার সংসদে পাঠানো মানে রাষ্ট্রকে লুটেরাদের হাতে জিম্মি করে দেওয়া,’ বলেন তিনি।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে, তারাও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফ্যাসিবাদী আমলেও এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগ সে সুযোগ আরও সহজ করে দিচ্ছে।’
সমাবেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়। ইসরাফিল ফরাজী বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি। নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে এই কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’ তিনি সেনাবাহিনীকে দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় কবি ও সংগঠক মুন্সি বুরহান মাহমুদ জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতীয় প্রক্সি দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দলটির শীর্ষ নেতারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি জিএম কাদেরসহ এনডিএফভুক্ত সব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী, মুজাহিদুল ইসলাম (অন্তু মুজাহিদ), শামিমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
জুলাই ঐক্যের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

