প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি গন্তব্য দেশগুলোর অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে এখনো কিছু প্রবাসী কর্মী শোষণ ও অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন, যা প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আবুধাবি সংলাপের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রবাসী কর্মীদের নৈতিক নিয়োগ, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যৌথ প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। তিনি সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখ করেন—শতভাগ ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল চালু, প্রি-ডিপার্চার সহায়তা ও ওভারসিজ কল্যাণ সেবা জোরদার, দক্ষতা প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।
সংলাপের ফাঁকে উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রী ড. আব্দুর রহমান আব্দুল মান্নান আল আওয়ারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে দণ্ডপ্রাপ্ত ২১২ জন বাংলাদেশি প্রবাসীকে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের জন্য আমিরাত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বৈঠকে উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা সীমিতকরণ নীতির কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক প্রবাহ কমে গেছে এবং সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা ভিসাজনিত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি ভিসা, নাবিক ভিসা ও ট্রান্সফার ভিসাসংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি মানবসম্পদ মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী (প্রবাসী ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) চৌধুরী সালিক হোসাইন এবং ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্সের সচিব হ্যান্স লিও ক্যাকডাকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক নিয়োগ, প্রবাসী কল্যাণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন