× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে জিয়া মাথা উঁচু রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন : কাদের গনি 

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, ‘মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এটা মীমাংসিত সত্য। তাদের নেতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের মর্যাদা কেড়ে নিতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন আবার কেউ কেউ আওয়ামী স্টাইলে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের ডাককে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। যারা ইয়াহিয়ার কণ্ঠে বাংলাদেশের পতনের বাণী শুনতে উদ্গ্রীব ছিলেন তারা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনবেন কী করে?’

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হৃদয়ে জিয়া পরিবার আয়োজিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

কাদের গনি বলেন, ‘জিয়া আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। মহান স্বাধীনতার ঘোষক। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। জিয়া স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রথম সামরিক ব্রিগেড ‘জেড’ ফোর্সের অধিনায়ক। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক শীর্ষ সংগঠন সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা।’

তিনি বলেন, একজন ভিশনারি, সার্থক ও কীর্তিমান রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ শাসক। ঘোরতর বিরোধীরাও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনতে পারেননি। জিয়াউর রহমানকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, তাতে তার যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না। কারণ তার কীর্তি বাস্তবিকই বিপুল ও বিশাল। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অহংকার অধ্যায়কে তিনি আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। অল্প জীবনে বিশাল তার অর্জন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি কর্মগুণে জ্যোতির্ময় হতে পেরেছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’

জাতিগতভাবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে সোনালি হরফে লেখা আছে জিয়াউর রহমানের নাম। ২৫ মার্চ কাল রাতে অকস্মাৎ গর্জে উঠল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতিয়ার। নিরস্ত্র, নিরপরাধ ঘুমন্ত জাতির ওপর হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা। বেঘোরে প্রাণ হারাল অগণিত মানুষ। রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন, অপ্রস্তুত, অসংগঠিত জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে এলো একটি বজ্রকণ্ঠ—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। তার এ ঘোষণা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল।

সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ সৈনিক জিয়া তখন হাল ধরলেন। আশাহত শঙ্কিত জাতিকে জিয়া আশাজাগানিয়া গান শোনালেন; তিনি ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাঙালি সৈন্যদের একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর সবাইকে একত্রিত করে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা জিয়াই করেছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। সব ক্যান্টনমেন্টে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করেন। বাঙালি সেনাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিয়া যেভাবে চিন্তা করতেন, সেটা অন্যরা করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াই প্রথম চিন্তা করলেন পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ আঘাত হানতে হলে ‘রেগুলার ওয়েল ট্রেন্ড আর্মি’ দরকার। সে লক্ষ্যে তিনি ব্রিগেড গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন। ভারতীয়রা প্রথমে রাজি হননি। জিয়াউর রহমান তা অগ্রাহ্য করে এবং প্রথম ব্রিগেড গঠন করেন, সেটির নামকরণ করা হয়েছিল তার নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ‘জেড ফোর্স’। এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ব্রিগেড। ‘জেড’ ফোর্সের যোদ্ধারা রণাঙ্গনে অনেক গৌরবদীপ্ত ভূমিকা রেখেছে। এই ফোর্স স্বাধীনতাযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সাহসিকতার পদক অর্জন করে। আত্মদান ও শহীদের সংখ্যাও বেশি ছিল এই ফোর্সে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান বিখ্যাত সব যুদ্ধের নির্দেশনা ও পরিকল্পনা করেছিলেন। কামালপুরের প্রথম যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, নকশী বিওপির যুদ্ধ, বাহাদুরাবাদ যুদ্ধ, দেওয়ানগঞ্জ থানা আক্রমণ, চিলমারী উভচর অভিযান, হাজীপাড়া, ছোট খাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলাই চা-বাগান, ধামাই চা-বাগান, জকিগঞ্জ, আলি-ময়দান, এমসি কলেজের যুদ্ধ, ভানুগাছ যুদ্ধ, কানাইঘাট যুদ্ধ, বয়মপুর যুদ্ধ, ফুলতলা চা-বাগান যুদ্ধসহ অসংখ্য যুদ্ধ মেজর জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও পরিকল্পনায় হয়েছিল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে উত্তরাঞ্চলের স্বাধীন অঞ্চলগুলো নিরাপদ রাখা ছিল জিয়াউর রহমান ও তার অধীনে গঠিত ‘জেড’ ফোর্সের অন্যতম প্রধান কাজ। এর অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় জেড ফোর্স বেশ কয়েকটি অঞ্চল স্বাধীন করে প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলে। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধকে ‘স্টালিনগ্রাদের’ যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন।

হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জুনায়েদ আবরারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিন, প্রফেসর শাহ আলম, মহিউদ্দিন মুনির, মাসুদ রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Link copied!