বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ক্রয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় যুক্তরাজ্যের আধুনিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ ক্রয় সংক্রান্ত এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
এ সময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সাল থেকে উভয় দেশের মধ্যে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দৃঢ় পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। জাহাজটিতে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারসহ উন্নত মানের হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম সংযোজিত রয়েছে। গভীর সমুদ্র জরিপ, সীবেড ম্যাপিং, ভৌত ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ এবং নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। এছাড়াও এতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা প্রণীত নতুন জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে এ জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের ফলে দেশের হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমেও এটি সহায়ক হবে।
এ ছাড়াও জাহাজটি গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর অধীনে প্রথম যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ডি-কমিশন করা হয়। জাহাজটি ২০২৬ সালের মধ্যে পুনঃসংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


