জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব ধরনের যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে দূরপাল্লার বাস চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছে বাস-ট্রাক মালিক সমিতি।
মালিক সমিতির সভাপতি রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বাস চলবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ সার্ভিস বন্ধ থাকতে পারে। তবে বাস চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ সার্ভিস বন্ধ থাকতে পারে। বাস চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বেশির ভাগ কর্মী ভোটের জন্য ছুটি চেয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার পর রাতে সার্ভিস পুনরায় চালু হতে পারে।
এর আগে, ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা হতে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিক আপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেই সাথে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
যেসব ক্ষেত্রে শিথিল থাকবে নিষেধাজ্ঞা
১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক।
২. জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ঔষধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহন।
৩. আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর হতে যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন।
৪. প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য ১টি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে)-এর জন্য ১টি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি প্রদান।
৫. সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন/মোটর সাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি প্রদান।
৬. নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটর সাইকেল চলাচলের অনুমতি প্রদান।
৭. টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি হতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
৮. জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাহির বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্তরূপ সকল রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ স্থানীয় প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতার নিরিখে আরও কতিপয় যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার/অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


-20240914101254-20260127182131.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন