অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টা, তাদের স্বামী-স্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে কয়েক দফা সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন উপদেষ্টা ছাড়াও আছেন উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। মন্তব্যে জানানো হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই পরিবর্তন এসেছে।
অন্য যেসব উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: তার সম্পদ ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা হয়েছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: তার সম্পদ ৭ কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা থেকে সামান্য বেড়ে ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী মিজ পারভীন আহমেদের সম্পদও ৪.৬৪ কোটি থেকে বেড়ে ৫.৩৮ কোটি টাকা হয়েছে।
আদিলুর রহমান খান: উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ায় তার সম্পদ ৯৮ লাখ ২২ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী ড. সায়রা রহমান খানের সম্পদও ৫.১৯ কোটি থেকে বেড়ে ৫.৮৩ কোটি টাকা হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার: তার সম্পদ ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৫৩৫ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী ডা. রমা সাহার সম্পদও ৩.১৪ কোটি থেকে ৩.৪০ কোটি টাকা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল: তার সম্পদ ১ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী মিজ শীলা আহমেদের সম্পদ ২.০১ কোটি থেকে বেড়ে ২.৪৪ কোটি টাকা হয়েছে।
ফারুক ই আজম: তার সম্পদ ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২ কোটি ২ লাখ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী শামীমা ফারুকের সম্পদ ৩৬.৭০ লাখ থেকে বেড়ে ৩৯.৭৩ লাখ টাকা হয়েছে।
বি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন: তার সম্পদ ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩.৫১ কোটি টাকা হয়েছে।
শারমীন এস মুরশিদ: তার সম্পদ ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ টাকা হয়েছে। তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর সম্পদও ১ কোটি টাকা বেড়েছে।
লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম: তার সম্পদ ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২.৭৭ কোটি টাকা হয়েছে।
আলী ইমাম মজুমদার: তার সম্পদ ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা হয়েছে।
ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার: তার সম্পদ ৭ কোটি ২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকীর সম্পদ ৭.৮২ কোটি থেকে ৮.২৯ কোটি টাকা হয়েছে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: তার সম্পদ ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী দিলরুবা কবিরের সম্পদ ৩.০৭ কোটি থেকে বেড়ে ৩.১৭ কোটি টাকা হয়েছে।
নূরজাহান বেগম: তার সম্পদ ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩ টাকা হয়েছে।
ফরিদা আখতার: তার সম্পদ ৮১.২৮ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬০ টাকা হয়েছে। তার স্বামীর সম্পদও ১.০৬ কোটি থেকে বেড়ে ১.১০ কোটি টাকা হয়েছে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন: তার সম্পদ ৮৮.১৫ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার ১০২ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী কামরুন্নেসা হাসিনার সম্পদ ১০.৬১ লাখ থেকে বেড়ে ১৪.১১ লাখ টাকা হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন: তার মোট সম্পদ ৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে।
লে. জে. (অব.) আব্দুল হাফিজ: তার সম্পদ ১২ কোটি ৭২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়েছে।
সম্পদ কমেছে যাদের
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: তার সম্পদ ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা থেকে কমে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকা হয়েছে। তবে তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের সম্পদ ১.৮৯ কোটি থেকে সামান্য বেড়ে ১.৯০ কোটি টাকা হয়েছে।
ড. আফরোজী ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী): তার সম্পদ ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা থেকে কমে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা হয়েছে।
সুপ্রদীপ চাকমা: তার সম্পদ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা থেকে কমে ১ কোটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী নন্দিতা চাকমার সম্পদও ৬৩.২০ লাখ থেকে কমে ৫৮.৭৫ লাখ টাকা হয়েছে।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী: তার সম্পদ ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা থেকে কমে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকা হয়েছে। তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ ২.৯৯ কোটি থেকে কমে ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৮ টাকা হয়েছে।
কে এম আসাদুজ্জামান (নূরজাহান বেগমের স্বামী): তার সম্পদ ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে কমে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৫৯ টাকা হয়েছে।
আংশিক তথ্য
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (সাবেক উপদেষ্টা): ২০২৪ সালে TIN না থাকলেও ২০২৫ সালে তার সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা।
মো. মাহফুজ আলম (সাবেক উপদেষ্টা): তার সম্পদ ৪.২০ লাখ থেকে বেড়ে ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা হয়েছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও লুৎফে সিদ্দিকী: তাদের সম্পদের বিস্তারিত অঙ্ক প্রজ্ঞাপনে তারকা চিহ্নিত (*) রাখা হয়েছে।




