ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, রাত পোহালেই ভোট

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৪৬ এএম
​​​ছবি- সংগৃহীত

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।  একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।

নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে এবারের সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে।  পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক তালিকায় জানানো হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৭৫ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।  সারা দেশের ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের হার ৪০ শতাংশের বেশি।

এদিকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা কার্যক্রম পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন বিদেশি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।  সিইসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুসরণ করেই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন।  প্রতিটি নির্বাচনই বিতর্কের জন্ম দেয়।  সে কারণে এবারের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে দেশি-বিদেশি মহল।

এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে।  প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।  ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।  সারাদেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে।

এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।  ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন প্রবাসীর ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।  ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।  এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কারাগারে থাকা ভোটাররাও।

২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।  বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।  মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন।  এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন।  নারী প্রার্থী আছেন ৮০ জন।

রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রতীকের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।  নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তায় জোর নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচনে পুলিশসহ ৯ লাখের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।  এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে বর্তমানে মোতায়েন রয়েছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য ১০ জেলার ১৭টি আসনে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য। নির্বাচনী দায়িত্বে পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব সদস্যও মোতায়েন থাকবে।

প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যদের দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অস্থিরতার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে চালু থাকবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। এই অ্যাপটি শুধু নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারবেন।

এ ছাড়া সদ্য চালু হওয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ জানানো, সতর্কবার্তা দেওয়া বা তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা এবং দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর (+৮৮০২২২৬৬৪১১১৮) চালু রাখা হয়েছে।