বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আমবাগানের গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। গত বছরের তুলনায় এবারে নতুন পাতা গজিয়েছে কম। বাগানে বাগানে আমের মুকুলের ম-ম গন্ধ সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। প্রতিটি গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন উপজেলার আমচাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমগাছে আসতে শুরু করেছে আগাম মুকুল। আগাম মুকুলে আমচাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠেছে। মাঘের হিমেল হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খাচ্ছে মুকুল। গাছের কচি শাখা-প্রশাখায় ফোটা ফুলগুলোর ওপরে সূর্যের আলো পড়তেই চিকচিক করে উঠছে। বেশির ভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। আম উৎপাদন নিয়ে এবারে সংশয় নেই বলে চাষিরা জানিয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে বিগত মৌসুমে উদ্ভিদের শাখার অগ্রভাগে কার্বনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নতুন পাতা বেশি দেখা দিয়েছিল। এবারে নতুন পাতার পরিমাণ খুবই কম। আর সঠিক সময়েই আমের মুকুল গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব আলোহালী গ্রামের আমচাষি জিল্লুর রহমান বলেন, এলাকার অনেক বাগানে মুকুলে ভরপুর। এখন পর্যন্ত ৮০ ভাগ আমগাছে মুকুল এসেছে। আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সব গাছে গাছে মুকুল চলে আসবে।
গোবিন্দপুর খেহালী উত্তরপাড়া গ্রামের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, উত্তরবঙ্গের আমের বিখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেই জেলার খাসের হাট এলাকায় আমচাষি মোফাজ্জল হোসেনের তিন একর জমিতে আমবাগান দেখে আমার আমবাগান করার উৎসাহ জাগে। এরপর তিন শতক জমিতে ৫৫টি আমগাছ লাগিয়ে তিন বছর হলো প্রতিটি গাছ মুকুলে ভরপুর। যাতে আমের মুকলে পোকা না লাগে, এ জন্য বাড়তি ফলন ও পোকামুক্ত আমের রং ঠিক রাখতে কীটনাশক ও ভিটামিন দিয়ে আমের গাছ স্প্রে করা হয়। যেন মুকুল বেশি ও ভালো হয়। গাছের গোড়ায় জৈব সারসহ সেচ দিয়েছি যে কারণে গাছ ভরে মুকুল বেরিয়েছে।
আলতাফ নগরের মৌকুঁড়ি গ্রামের আম চাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আম গাছের আগাছা পরিষ্কার করে সার-ভিটামিন জাতীয় ওষুধ দিয়ে ছোট-বড় সকল গাছের পরিচর্যা শুরু করা হয়। পাশাপাশি পোকা দমনে আগাম কীটনাশক স্প্রেসহ পানি ছিটানো হয়। এতে পোকা দমন হবে এবং গাছের মুকুলের কোনো ক্ষতি হবে না।
এ এলাকায় কয়েক প্রকারের আমের ফলন যেমন খিরসা, ফজলি, আশ্বিনা, গোপালভোগ, আম্রপালি, বারি-৪ সহ অনেক জাতের আম চাষ হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ৯০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আমের মুকুলের সঠিক পরিচর্যায় মুকুল আসার আগে ও পরে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করা জরুরি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন