মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গাজীপুরে আনসার একাডেমিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
শনিবার বাহিনীর মুখপাত্র উপ-পরিচালক মো. আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বিতর্কের সৃষ্টি’ শিরোনামে প্রকাশিত কিছু সংবাদ বাস্তব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয় এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান। এর ফলে জনমনে অনভিপ্রেত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে ‘জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বিতর্কের সৃষ্টি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করেছে, যা তাদের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। উক্ত সংবাদে উপস্থাপিত বক্তব্য বাস্তব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়; ফলে জনমনে অনভিপ্রেত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, আনসার-ভিডিপি একাডেমি দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকে। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে সুউচ্চ ১২০ ফুট পতাকাস্তম্ভের আনুষ্ঠানিকতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে এবং বাহিনীর নিজস্ব সদস্যদের জন্য প্রেরণামূলক ড্রিলমাত্র, যা দুই পর্বে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল অনুষ্ঠানের একটি অংশকে উপজীব্য করে সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভের চেতনার পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে বাহিনী যথাযথ মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে একাডেমির প্রতিটি স্থাপনায় অন্যান্য দিনের মতো প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। সুউচ্চ পতাকাস্তম্ভের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন আয়োজন।
সরকারি বাহিনী হিসেবে অন্যান্য বাহিনীর ন্যায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বাহিনীর নিজস্ব পতাকাও উত্তোলন করে থাকে, যা বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। আজ একাডেমি প্রাঙ্গণে দেশের সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভে জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকা উভয়ই পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের মাধ্যমে পতাকাস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে প্রটোকল ও শিষ্টাচার অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।
জাতীয় পতাকার সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সাংবিধানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শহীদদের আত্মত্যাগের অবিনাশী প্রতীক—যার প্রতি আমরা সর্বোচ্চ মাত্রায় শ্রদ্ধাশীল।
তথাপি, সংবাদ পরিবেশনের ফলে যে বিভ্রান্তির অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে, তা অনভিপ্রেত। বাহিনী সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে অনুরোধ জানিয়েছে—প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সময়সূচি, প্রটোকল ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো প্রকার ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মহান শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুনরায় অঙ্গীকার করছে যে, জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য অটুট রাখা তাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন