নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) পদ বাগিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছেন আকমল হোসেন এবং রুহুল আমিন। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ মুহূর্তের সময়কে বেছে নিয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং বিভিন্ন অভিযোগে বিতর্কিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই দুই কর্মকর্তা, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দুই দিনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পিও হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, নতুন সরকারে রদবদলের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেই নিজেদের পছন্দমতো পদায়ন নিয়েছেন আকমল এবং রুহুল। সংশ্লিষ্ট আরও একটি সূত্রের অভিযোগ, নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের ‘ক্ষতি’ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ দুই ব্যক্তির পিও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আকমল ও রুহুলকে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাঝে অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন পিও আকমল হোসেন। আওয়ামী মন্ত্রী এবং লীগপন্থি কর্মকর্তাদের সুনজরে বাগিয়েছিলেন বিদেশি পোস্টিং। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আকমলকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে পদায়ন করা হয়। সেখান থেকে ফিরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হন। অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ দিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেজওয়ানা আহমেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ এর ঠিক এক দিন পরেই অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন আকমল হোসেন। রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিদেশে পোস্টিং পেয়েছিলাম পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে। সরকারি চাকরি করেছি, যেভাবে পোস্টিং হয়, আমারও সেভাবে হয়েছে। অন্যরা কি সরকারি চাকরি করেনি?’
অন্যদিকে গত সরকারের একদম শেষ দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয় রুহুল আমিনকে। এর আগে তিনি সম্প্রচার অনুবিভাগের যুগ্মসচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার পদে ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে সেই সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন রুহুল আমিন। তবে প্রায় এক মাস পর ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে উপদেষ্টার পিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রুহুলকে। সেবা গ্রহীতাকে স্লিপে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ওয়ালেটের নম্বর দিয়ে উৎকোচ চাওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
তবে বিএনপির নতুন সরকার গঠনের শপথ গ্রহণের দিনেই সেই রুহুলকে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবির আরও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ দিনে রুহুল আমিনের মতো কর্মকর্তাকে প্রতিমন্ত্রীর মতো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির এত ঘনিষ্ঠ পদে নিয়োগে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, নতুন সরকার এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিতর্কিত করতেই আকমল এবং রুহুলকে যথাক্রমে মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর পিও পদে বসানো হয়েছে। এই দুই কর্মকর্তা ভবিষ্যতে দুর্নীতি করলে তার দায় পড়তে পারে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ওপর।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রুহুম আমিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাঝে আমি সব থেকে জুনিয়র। আমাকে উপদেষ্টার (নাহিদ) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা করায় সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা নাখোশ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সবাই জানে এগুলো মিথ্যা’।

-20260223001852.webp)

